লতিবপুরে ভয়াবহ সংঘর্ষে পথচারী নিহত, ৩০ বসতঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ

lotifpur

দুই পক্ষের প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে কিশোরগঞ্জের লতিবপুরে নূরুল ইসলাম (১৭) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এসময় অন্তত ৩০টি বসতঘরে ব্যাপক হামলা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

রবিবার বিকেলে সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের লতিবপুর শ্রীমন্তপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ও র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত নূরুল ইসলাম পেশায় রং মিস্ত্রী। তিনি লতিবপুর গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, শ্রীমন্তপুর গ্রামের রইছ মেম্বারের সাথে একই এলাকার পারভেজের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে রবিবার সকালে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিকেলে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় একই এলাকার নূরুল ইসলাম নামে এক পথচারী।

এক পর্যায়ে গ্রামের মাইকে নূরুল ইসলাম মারা গেছে বলে ঘোষণা দেয়া হলে পুরো গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নূরুল ইসলামকে নিজেদের লোক দাবি করে গ্রামের একটি পক্ষ শ্রীমন্তপুর এলাকায় অন্তত ৩০টি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন লাগিয়ে দেয়।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ, তাড়াইল ও ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর পর কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ারের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।