ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার খবরে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনঃরায় শুরু হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার এক ধাক্কায় তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

বার্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৬টা ৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩.৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯.৬০ ডলারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নির্ধারিত একটি সামরিক হামলা বাতিলের সিদ্ধান্তের পরপরই তেলের বাজারে এই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়। ট্রাম্প জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের বিশেষ অনুরোধেই তিনি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করেছেন। সেই সঙ্গে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। এর সাথে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দ্রুত স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা কমে আসার এই আভাস বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এবং অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি ভেস্তে গেলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ায় তেল পরিবহন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ওপেক প্লাস ভুক্ত দেশগুলো তাদের উত্তোলন কোটা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বজায় রাখায় বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা দাম নিম্নমুখী করতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

Scroll to Top