লোকসান কমাতে ফিড গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর আবেদন

লোকসান কমাতে এবং সিএনজি ব্যবসা সচল রাখতে বিশেষ ক্ষমতাবলে ফিড গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর আবেদন করেছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান বরাবর এক চিঠিতে এই আবেদন করেছেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ।

এতে বলা হয়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান ব্যয় হলো বিদ্যুৎ। গ্যাসকে কম্প্রেস করে যানবাহনে সরবরাহ করতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের মূল্য একাধিক দফায় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এর সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাংক ঋণের সুদ ও চার্জ, লাইন্সেস/নবায়ন ব্যয়, ভূমি ও স্থাপনা ব্যয় যুক্ত হয়ে সিএনজি ব্যবসার ব্যয় কাঠামো ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের বিপরীতে সিএনজি ব্যবসায়ীদের কমিশন/ মার্জিন সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বহন করতে গিয়ে সিএনজি স্টেশনের মালিকরা প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়ছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সিএনজির ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য এবং সিএনজির ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় সিএনজি ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করতে পারেন না। ফলে একদিকে যখন বিদ্যুৎসহ অন্য পরিচালন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তার উপরে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই অবস্থায় শুধু ভবিষ্যৎ কমিশন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলে বহু সিএনজি স্টেশন আর্থিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। কিছু স্টেশন আবার তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। আর এমন হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভোক্তা ও পরিবহন খাতের ওপর।

এজন্য মার্জিন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত একটি জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য কমানোই বর্তমান সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী।

Scroll to Top