প্রাণঘাতী করোনা ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ একসঙ্গে নয়, তবে সতর্কতার বিকল্প নেই

corona

দু’টি ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত একসঙ্গে হয় না। বর্তমানে দেশে যেহেতু করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তাই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভবনা নেই। এমনটায় ধারণা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তবে সতর্কতার বিকল্প নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণত একসঙ্গে দু’টি ভাইরাসের সংক্রমণ হয় না। দেশে যেহেতু করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তাই ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক হবে তা মনে হয় না।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরে শুরুর দিক থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা খুবই তৎপর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মশার আবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারলেই এডিস মশা নিমূল করা যাবে। রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশামুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চারজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২০ জন রোগী ভর্তি আছেন।

কন্ট্রোলরুম তথ্য থেকে জানা যায়, ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতলে ডেঙ্গু ও সন্দেহজনক ডেঙ্গু নিয়ে ৩৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন ৩৬৮ জন।

তাদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫৪ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে-তে ১০ জন, জুনে ২০ জন, জুলাইয়ে ২৩ জন, ১৬ আগস্ট পর্য়ন্ত ৪০ জন ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, চলতি বছরে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু সন্দেহে এ পর্যন্ত এক রোগীর মৃত্যুর তথ্য সরকাররে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর নিশ্চিত হয়েছে মৃত্যুটি ডেঙ্গু জনিত নয়। তাই এ বছর এখনও কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।