উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজে জড়িত থাকলেই বরখাস্ত: মন্ত্রী

Muhammad Tajul Islam

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, বদলি কোনো শাস্তি নয়, দেশের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পে নিম্নমানের কাজে জড়িত থাকলে বরখাস্ত অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলীরা যদি কোনো বাধা বা হুমকির সম্মুখীন হন তাহলে তাদের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নেবে।

রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতির উপর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা নিয়ে অনলাইন সভায় তিনি একথা বলেন। একই সঙ্গে সব প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ করার জন্য প্রকল্প পরিচালক ও এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অবশ্যই মানসম্পন্ন, টেকসই ও উৎপাদনশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিম্নমানের কাজে জড়িত থাকবে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, মন্দ কাজের জন্য যেমন তিরস্কার বা বরখাস্তের ব্যবস্থা থাকবে তেমনি ভালো কাজে যারা জড়িত তাদের পুরষ্কৃতও করা হবে।

করোনা সংকটে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা প্রকোপে এবছর প্রকল্পের অগ্রগতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। সব বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

গ্রামীণ সড়ক, ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক ও উপজেলা সড়ক নির্মাণে স্ট্রাকচারাল ডিজাইনসহ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ইত্যাদি নির্দিষ্ট করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন তৈরি করে সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন মন্ত্রী। এছাড়া ছোট-বড় যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে নেভিগেশন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।

গ্রামীণ সামাজিক অবস্থার উন্নতি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতির সঞ্চার এবং মানুষকে উন্নত জীবন দিতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্বসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজে মানুষকে সম্পৃক্ত করলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন এলজিইডি, ডিপিএইচই, সব ওয়াসা, সব সিটি করপোরেশন, এনআইএলজি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫৬টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। যা গতবছর ছিল ৯৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রকল্প কাজের মৌসুম হলেও করোনা মহামারির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এবছর কাজের অগ্রগতি কিছুটা কম হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।