দেশে তিন উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ বিপদসীমার নিচে থাকবে: ডা. নজরুল ইসলাম

dr. nazrul islam

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে অফিস, কল-কারখানা, যানবাহন সব কিছু চালু করে দেওয়ার পরও করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক অবস্থায় যায়নি। বরং ভাইরাস শনাক্তের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশে ওঠানামা করছে।

জনগণকে সচেতন করে তিনটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে শনাক্তের হার বিপদসীমার নিচে চলে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য এবং দেশের অন্যতম ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, এখন রাস্তা ঘাটে, বাজারে গেলে দেখা যায় অনেকেই মাস্ক পরছেন না, দূরত্বও বজায় রাখছেন না। সবকিছু খুলে দেওয়ার পরও দেশে করোনা সংক্রমণের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেও যদি সংক্রমণের হার এ অবস্থায় থাকে, তাহলে দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক ব্যবহার ও নিয়মিত হাত পরিষ্কার করলে সংক্রমণের হার আরও অনেক কমে যাবে। তখন আশা করা যায় সংক্রমণ বিপদসীমার নিচে চলে আসবে। আমাদের অবশ্যই মাস্ক পড়া, হাত ধোয়া এবং দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মগুলো পালন করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নিয়ম চালু করা যেতে পারে। যেমন, কেউ মাস্ক না পরলে তার কাছে কোনো দোকানদার বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বিক্রি করবে না। মাস্ক না পরলে তাকে বাসে উঠতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো দোকানদার মাস্ক ছাড়া কোনো লোকের কাছে পণ্য বিক্রি করে তাহলে, সেই দোকানদারকে জরিমানা করতে হবে। প্রয়োজনে শাস্তির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তেমনি বাসে কোনো যাত্রী মাস্ক ছাড়া থাকলে, সেই বাসের হেলপার অথবা ড্রাইভারকে জরিমানা করা হবে। তাহলে হেলপার মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী তুলবে না। যাত্রীরা তখন বাধ্য হয়ে মাস্ক পরবে। রাস্তাঘাটে মাস্ক ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে জরিমানা করতে হবে। এর ফলে সংক্রমণ আরও অনেক কমবে।

এমন নিয়ম প্রয়োগে অনেক জনবলের প্রয়োজন, সেই জনবল বা সক্ষমতা কি আমাদের আছে? জানতে চাইলে দেশের অন্যতম শীর্ষ এ ভাইরোলজিস্ট বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের সক্ষমতা আছে। যেমন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এই দায়িত্ব খুব সহজেই পালন করতে পারে। দুই সিটি করপোরেশন এ জন্য এলাকা বা ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেবে। স্বেচ্ছাসেবকদেরকে সিটি করপোরেশন থেকে একটি করে পোশাক সরবরাহ করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকরা সেই পোশাক পরেই কাজ করবেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকাভিত্তিক রাস্তায় বা গণপরিবহনে মাস্ক ছাড়া লোকজন আছে কিনা দেখবেন, বাজারে সবাই মাস্ক পরছেন কিনা, দূরত্ব বজায় রাখছেন কি না এসব বিষয় দেখবেন। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সাথে একজন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া তথ্যমতে প্রয়োজনে জরিমানা এবং শাস্তির ব্যবস্থা করবে। একাজে দেশের আনসার বাহিনীর সদস্যদেরকেও যুক্ত করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন এ নিয়ম পালন করলে জরিমানা এবং শাস্তির ভয়ে সবাই মাস্ক পরা শুরু করবে, বাজারে এবং রাস্তাঘাটে তখন মাস্কবিহীন লোক দেখা যাবে না। তেমনি কোনো অফিসে বা কল-কারখানাতেও মাস্ক ছাড়া কোন লোক থাকলে, তাকে এবং সেই অফিসের কর্তৃপক্ষ বা মালিককে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের অফিস এবং কারখানায় নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে, না থাকলে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। কয়েকদিন এ নিয়ম যথাযথভাবে পালন করলে করোনা সংক্রমণ বিপদসীমার নিচে চলে আসবে আশা করি।