দেশের সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ

students

দেশের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সরকারি শিশু পরিবারগুলোর অসহায় এতিম শিশুদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। সারা দেশের ৮৫টি শিশু পরিবারের সাড়ে আট হাজার শিশুকে প্রাথমিকভাবে পোশাক খাতের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এজন্য সরকারি প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করছে মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের এ উদ্যোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব শিশু পরিবারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এতিম শিশুদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বলেন, সরকারি শিশু পরিবারগুলোতে থাকা অবস্থায় শিশুরা প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়ার পর অনেকে বিপথগামী হয়ে পড়ে। এমনকি কেউ কেউ মাদকাসক্ত ও কর্মহীন অবস্থায় চরম অনিশ্চিত জীবনে পা বাড়ায়। এ অনিশ্চিয়তা দূর করতে শিশুদের শিশু পরিবার থেকে বের হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জয়নুল বারী বলেন, শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য এরইমধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, সরকারি শিশু পরিবারগুলোর সুবিধা-অসুবিধা দেখতে সরেজমিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করছেন সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী। গত কয়েকদিন ধরে সিলেট এলাকার শিশু পরিবারগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তিনি শিশুদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগের বিষয়টি জানিয়েছেন। এবিষয়ে শিশু পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।

সূত্র মতে, পিতৃমাতৃহীন বা পিতৃহীন এতিম শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজে পুনর্বাসনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে। সরকারি শিশু সদন বা শিশু পরিবার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০২২ ও শিশু আইন ২০১৩ এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলে।

দেশের বিভিন্ন জেলা সদর ও কিছু কিছু উপজেলায় অবস্থিত ৪২টি বালক, ৪২টি বালিকা একটি মিশ্রসহ সর্বমোট ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবার রয়েছে।

শিশু পরিবারে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত ফরমে ৬-৯ বছরের এতিম শিশুর অভিভাবকরা আবেদনপত্র দাখিল করবেন। প্রাপ্ত আবেদনপত্রের খসড়া তালিকা প্রস্তুতপূর্বক তত্ত্বাবধায়ক বা ঊপ-তত্ত্বাবধায়ক ভর্তি কমিটির সভা আহ্বান করেন। সভায় নিবাসী নির্বাচনপূর্বক আবেদনকারীকে অবহিত করার মাধ্যমে ভর্তি করা হয়।

এতিম নিবাসী শিশুদেরকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণ-পোষণ, পারিবারিক পরিবেশে স্নেহ-ভালোবাসা ও আদর-যত্নের সঙ্গে লালনপালন, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, নিবাসীদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষতা সাধন এবং পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।