রাজধানীতে আবারও আগুন সন্ত্রাস

রাজধানী ঢাকায় আবারও একের পর এক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গণপরিবহনে আগুন দেয়ার খবর আসছে। গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। ঘটনাগুলোর সময় বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যায়, আগুনে জ্বলছে বাস, চারদিকে ধোঁয়া আর আতঙ্কে দৌড়াচ্ছে যাত্রীরা। রাজধানীর যান চলাচলেও পড়েছে মারাত্মক প্রভাব। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরে মালঞ্চ বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের এক ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সূত্রাপুরে মালঞ্চ বাস পার্ক করা অবস্থায় ছিল। দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে আমাদের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে প্রাথমিকভাবে তা জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় রাইদা পরিবহনের দুটি ও রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

একই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগে। এ দিন ভোরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭টি মামলা করা হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একজন বাসচালক বলেন, ‘প্রতিদিন কাজে বের হওয়ার সময় ভয় লাগে। কখন কোথায় আগুন লাগবে, কে জানে! আমরা তো শুধু জীবিকার জন্য গাড়ি চালাই।’

এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের আবহে এমন ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহিংসতা শুধু সম্পত্তির ক্ষতি করছে নাÑ মানুষের জীবনে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আগে সোমবার দিন ও রাতে ঢাকায় বাসে আগুন দেয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।

Scroll to Top