বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ সময় আলাদা ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণ হয়। পোস্টাল ভোট ছাড়া এবার জেলায় ১৬ লাখ ৫ হাজার ১২১ জন ভোটার ছিল।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লামচরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌপল্লী কেডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রেজাউল করিম ভোট প্রদান । পরে তাদেরকে একসঙ্গে হাজিরপাড়া ইউনিয়নের চরচামিতা বেগম অজিফা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। এ সময় তারা কুশল বিনিময় করেন।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্র রেখে রাতে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে খাবার খেতে গিয়ে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার এমএ ওসমানি ও পোলিং অফিসার মো. ইকবাল হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
তারা লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নলঠগি মদিনাতুল উলুম ইসলামীয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের আটক করা হয়। ওসমানি গন্ধব্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর ইকবাল দক্ষিণ টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে থাকেন।
শুরুতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও কমতে থাকে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয় ও পৌর শহিদ স্মৃতি একাডেমী, আদিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে পৃথক হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ১২ জন আহত হয়। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, আটক দুইব্যক্তি চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মোট ভোটের ৫১ শতাংশ কাস্টিং হয়েছে। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত কত শতাংশ কাস্টিং হয়েছে তা নির্ণয় করতে আরও সময় লাগবে। তবে বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এক্ষেত্রে আরও কয়েক শতাংশ ভোট যোগ হবে।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘ক্ষমতার মালিকানা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। জয় পরাজয়ের মালিক জনগণ, তারা যে রায় দিবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে তা মেনে নিবো। ’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এ পরিবেশের মাধ্যমে দেশবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ’







