বাংলাদেশ আনলকড: দেশকে পরিপূর্ণভাবে জানার একটি ব্যতিক্রমী ফেসবুক গেম

Bangladesh unlocked

দেশকে জানতে হলে প্রয়োজন হয় বইপুস্তুক ও ভালো শিক্ষকের বা ভ্রমনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ আনলকড, এই দেশের প্রথম করপোরেট সমর্থিত ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট গেম, যা আমাদের দেশকে পরিপূর্ণভাবে জানার ও শেখার অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।

আজ বুধবার (০৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আমরা আমাদের মাতৃভূমি সম্পর্কে কতটুকু জানি? যে দেশে জন্মেছি, যে দেশে লালিত পালিত হয়েছি সে মাতৃভূমিকে আমরা কতটুকু হৃদয়ে ধারণ করতে পেরেছি। উদাহরণস্বরূপ আপনি কি, আমাদের জাতীয় স্মৃতি সৌধর স্থপতির নাম জানেন? অথবা, বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান কোথায় এবং এর নাম কি? ‘পল্লী কবি’ হিসেবে কে পরিচিত? অথবা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যেসব রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের পরিদর্শন করেছিলেন, তাদের মধ্যে সর্ব প্রথম কে ছিলেন?

একটি জাতির পরিচয় তার ইতিহাসে নিহিত এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর বিপরীত কিছু নয়। আমরা আমাদের নিজেদের ইতিহাস যত বেশি জানব, তত বেশি উপলব্ধি করতে পারবো যে কত ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহাসিক ঘটনা, সংস্কৃতি, ভাষা, সৃজনশীল স্থপতি এবং শিল্পের প্রাচুর্যের দ্বারা সমৃদ্ধ। স্বাধীনতার পরবর্তী ৪৯ বছর অতিক্রম করে, অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে, আজ আমরা আমাদের মেধা এবং কর্ম দিয়ে বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি যা আসলেই গর্ব করার মতো।

তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, আমরা একটি জাতি হিসেবে এই পর্যায় পর্যন্ত কীভাবে এসেছি সে ব্যাপারে আমাদের কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। অবাক হলেও সত্য এই যে আমরা অনেকেই বিশ্ব দরবারে আমাদের অবদান এবং অর্জন সম্পর্কে মোটেও অবগত নই। একটি স্বাধীন দেশের জন্য যারা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিল তাদের আমরা মনে রাখিনি, এটা খুবই দুৰ্ভাগ্যজনক।

আমাদের যুব সমাজের মধ্যে এই ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। তাদের জ্ঞানের অভাব ও শেখার প্রতি অনীহা পুরো প্রজন্মকে পরিচয় সংকটে ফেলে দিয়েছে। তাই এই প্রশ্নটি সামনে চলেই আসে যে আসলেই আমরা প্রকৃত বাংলাদেশি হতে পেরেছি কিনা। পীড়াদায়ক হলেও সত্য এই যে, আমরা বহির্বিশ্বে ভারতের পাশে অবস্থিত একটি ছোট্ট দেশ হিসেবেই পরিচিতি পাই।

যে দেশ সম্পর্কে আমরা এত কম জানি, সে দেশকে আমরা কীভাবে আপন করে নিতে পারবো? আমরা আমাদের অর্জনগুলো নিয়ে কীভাবেই বা গর্ব করতে পারবো? নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে ঘোষণা দেই ঠিকই, কিন্তু নিজের দেশকে সেভাবে চিনতে ও জানতে পারিনি।

এই জাতির ভবিষ্যৎ আমাদের যুব সমাজের কাঁধে এবং একটি জাতি হিসেবে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের যুব সমাজের উপর নির্ভর করতে হবে। তারা আমাদের অতীতের সাফল্যের ধারাকে অব্যাহত রেখে, দৃঢ়, বহুমুখী বিভিন্ন উন্নয়নশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়তা করবে।

কিন্তু তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে যদি তারা মাতৃভূমি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে?

গেমের থেকেও বেশি কিছু
বাংলাক্যাট দ্বারা পরিচালিত, বাংলাদেশ আনলকড একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট গেম, যার প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণকে দেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করা। বাংলাদেশে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতের সর্বাধিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাক্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাক্যাট শুধু মাত্র একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, গুণগতমান এবং পরিষেবার উৎকর্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যত তৈরির উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর বাংলাদেশ আনলকড ফেসবুক গেমটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো কোনো করপোরেট সংস্থা ফেসবুকে একটি ইনস্ট্যান্ট গেম চালু করেছে, যার এক মাত্র উদ্দেশ্যই হলো, জনগণকে কার্যকর ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে দেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধকরা। বাংলাদেশ আনলকড গেমের স্লোগানটি এই গেমের মূল উদ্দেশ্যকে উপস্থাপন করে, যা হলো ‘দেশকে জানুন, নিজেকে চিনুন’।

ক্রমবর্ধমান ডিজিটাইলাইজেশন এবং সংযোগের যুগে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনগুলো যোগাযোগ মাধ্যমের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে ফেসবুক আড়াই বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মাধ্যমে শীর্ষে অবস্থান করছে। জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত, বাংলাদেশে ৩৩ মিলিয়নেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে, যা জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই পরিসংখ্যান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই ডিজিটালিজশনের যুগে বাংলাক্যাট ‘বাংলাদেশ আনলকড’ নামে একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করলো। এই ফেসবুক গেমের মাধ্যমে একটি অনন্য সুযোগ স্থাপিত হয়েছে যা আমাদেরকে নিজের দেশের পরিচিতির মাধ্যমে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করেছে। এটি আমাদের সামনে একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে যার মাধ্যমে আমরা আমাদের নিজ পরিচয়কে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করতে পারছি। এটি এমন একটি প্রয়াস যার মাধ্যমে জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করা যেতে পারে, যারা বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।