স্পেনে গত একদিনে মারা গেল আরও ৬৮০ জন

ছবিঃ সংগৃহীত

একটা করে দিন যাচ্ছে আর ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। এর ভয়ে বলতে গেলে পুরো বিশ্বই এখন ‘লকডাউন’ কিন্তু তাতেও ঠেকছে না তার তাণ্ডব নৃত্য। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রাণঘাতি ভাইরাসটিতে অনেক আগেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি। এবার তার পথে হাটছে ইউরোপের দেশ স্পেন। যেখানে গত একদিনে নতুন করে ৬৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে ২ হাজার ৯৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৯৪ জন।

বর্তমানে ৩৫ হাজার ২৭৩ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৩২ হাজার ৬৩৭ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২ হাজার ৬৩৬ জনের অবস্থা গুরুতর; যাদের অধিকংশই আইসিইউতে রয়েছেন।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির পরই স্পেনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মাদ্রিদের একটি হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে শত শত মানুষ বারান্দায়, ব্যালকনিতে কিংবা হাসপাতাল কক্ষের সামনে শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন, অনেকেই অক্সিজেন নিচ্ছেন। এ ছাড়া আরও শত শত মানুষকে হাসপাতালের ওয়েটিংরুমে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যারা চিকিৎসা নেয়ার জন্য মাদ্রিদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে স্পেন। হাসপাতাল কর্মীদের সংগঠন জেনারেল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কারের নেতা জাভিয়ার গার্সিয়া স্থানীয় দৈনিক এল মুন্ডকে বলেন, হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

তাদের মধ্যে অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝেতে অথবা প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছেন।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও অন্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ হাজার ৮১০ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ২৭৭ এবং চীনের বাইরে মারা গেছে ১৫ হাজার ৫৩৩ জন। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ হাজার ৫৬৮ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৪১৩ জন। আর বিশ্বব্যাপী নতুন করে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৩৭৮ জনের। ফলে এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৯২ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্ত ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৪ জন।