নেতৃত্বের সংকটে ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেস

Indian National Congress

ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এখন নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে। গত লোকসভা ভোটে হারের পর সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর ইস্তফা এবং তার বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের ব্যর্থতা দলের শূণ্যতা তৈরি করেছে।

দলের সংস্কার ও পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন ২০ জনের বেশি রাজনৈতিক নেতা। যে কারণে সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকেছেন সোনিয়া। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকে তাদের পরবর্তী সভাপতিকে বেছে নেবেন দলের নেতারা।

এ দিকে, দেশের শতাব্দী প্রাচীন দলের ব্যাটন আগামীদিনে কার হাতে যাবে তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। কংগ্রেস নেতারাও এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত। একাংশ চাইছেন পূর্ণ সময়ের জন্য দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব সনিয়াই নিজের কাঁধে তুলে নিন। তা না হলে নিদেনপক্ষে গান্ধী পরিবারের কেউ কংগ্রেসের সভাপতির চেয়ারে বসুন।

এদিকে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী এবং অধিকাংশ প্রদেশ সভাপতি গান্ধী পরিবারের উপরে আস্থা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকায় আছেন পঞ্জাব, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী, দলের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী অশ্বিনী কুমার, সলমন খুরশিদ এবং কেকে তিওয়ারির মতো মুখ। তবে একাংশ চাচ্ছে ‘পরিবারতন্ত্রে’র অবসান ঘটিয়ে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও নেতাকে কংগ্রেসের দায়িত্ব তুলে দিতে। এই অংশের দাবি যৌথ নেতৃত্বই পারবে দলকে আবার সচল করতে। অনেকে আবার তরুণ নেতা মুকুল ওয়াসনিককে পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে সংস্কারের দাবি জানান দলের শীর্ষ ২৩ নেতা। এই নিয়ে সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠিও লেখেন। সেই চিঠিতে দলের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বেরও দাবি জানানো হয়েছে। সেই চিঠির গতকাল জবাব দিয়েছেন সোনিয়া। তিনি বলেছেন, সভানেত্রী পদে তার এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এ বার তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। দলের উচিত নতুন সভাপতি নির্বাচন করা। সোমবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া ফের এই ইচ্ছের কথা তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে।

গত লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, গান্ধী পরিবারের কাউকে যেন কংগ্রেস সভাপতি না করা হয়। সেই বার ম্যারাথন বৈঠক করেও নতুন কাউকে সভাপতি নির্বাচিত করতে পারেননি কংগ্রেস নেতারা। রাহুল গান্ধীও দায়িত্ব নিতে চাননি। এর পর এক বছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছে।