‘থ্রি ফিঙ্গারস’ সহ্য না করার হুমকি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর

Myanmar

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্র মিয়ানমারের রাজপথে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবারও রাজধানী নেপিডোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে নেপিডোতে বিক্ষোভ দমাতে জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি সামরিক সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, যেকোনো সময় ধরপাকড় শুরু হতে পারে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে গত সোমবার ভোরে রাজধানী নেপিডোতে অভিযান চালিয়ে স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী।

পরে সু চি ও উয়িন মিন্টের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই দুই মামলায় দুজনই রিমান্ডে আছেন। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আগামী এক বছর মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা চলবে। এরপর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে তারা। তবে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। এ কারণে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে এবং সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করছে তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় গত রবিবার, দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে। প্রায় এক লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।

গতকাল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় রাজধানী নেপিডোতে। এতে শামিল হয় কয়েক হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীও ছিলেন। বেশির ভাগ বিক্ষোভকারীর পরনে ছিল লাল রঙের পোশাক। কারো কারো মাথায় বাঁধা ছিল লাল ফিতা। লাল রং এনএলডির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। স্লোগান দেওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা হাতের তিন আঙুল উঁচিয়ে ধরছিল। মিয়ানমারে এই তিন আঙুল কিংবা ‘থ্রি ফিঙ্গারস’ সামরিক সরকারবিরোধী প্রতীক হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘আজ আমরা পেশাজীবীরা, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীরা রাজপথে নেমেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সামরিক শাসন চাই না।’ পোশাক কারখানার ২৮ বছর বয়সী এক শ্রমিক বলেন, ‘আজ আমি কাজে যাইনি। বেতন কাটা গেলে সমস্যা নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরব না।’

নেপিডোতে গতকাল বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল এমআরটিভিতে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়ে একটি সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। সামরিক সরকারের বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যারা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা কিংবা আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ইয়াঙ্গুনেও গতকাল সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। তারা অং সান সু চিসহ এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবি জানায়। এদিকে বন্দি নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে সামরিক সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। গতকাল সামরিক অভ্যুত্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় খুবই রূঢ়ভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আশা করি, দেশ ও সেখানকার মানুষের স্বার্থে অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হবে।’