মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। হাইকমিশনারের মতে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর এই আলোচনায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে এবং দুই দেশ চুক্তির বিভিন্ন শর্তাবলী নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল ও রাসায়নিক দ্রব্য বাংলাদেশে আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, জুতা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি করা হয়। এই বাণিজ্যিক ধারাকে আরও গতিশীল করতেই এফটিএ স্বাক্ষরের ওপর জোর দিচ্ছে দুই দেশ।
হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে কেবল শ্রমিক রপ্তানির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতা পরিবর্তনের সময় এসেছে। মানবসম্পদ খাতের বাইরেও বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। এই শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন দুই দেশের ৫৪ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্বকে আগামী দিনে আরও বহুমুখী ও অর্থবহ রূপ দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান যে, নির্বাচনের পর যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম মূল ভিত্তি থাকবে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিমধ্যে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের শুল্ক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Scroll to Top