শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি নরেন্দ্র মোদিকে রক্ষা করেছে

ভারতের সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট তীব্র সমালোচনার জেরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পদত্যাগ করেন দেশটির তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর আগে তার পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা প্রায় দুই মাস ধরে আন্দোলন করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও প্রশ্ন ফাঁসের এই ইস্যু নিয়ে আজ ভারতের পার্লামেন্টে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কে অংশ নিয়ে উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও লোকসভার সংসদ সদস্য অখিলেশ যাদব মন্তব্য করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে মূলত বিজেপি সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বেচ্ছায় বা চাপে পড়ে পদত্যাগ না করতেন, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদিকেই পদত্যাগ করতে হতো।

অখিলেশ পার্লামেন্টে আরও বলেন, বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া উচিত যে তারা সঠিক সময়ে প্রধানকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তরুণ সমাজ যেসব যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছে, সরকার তা মেনে নেবে। সরকারকে অনেক সময় নতি স্বীকার করাতে হলেও এর পেছনে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দাবির প্রয়োজন হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এই একই বিষয়ে আলোচনার সময় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মোদি সরকার যেকোনো ধরনের গণআন্দোলনকেই নিজেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিতে নারাজ।
অভিষেক ব্যানার্জি তার বক্তব্যে বলেন, গত দুই মাস ধরে দেশের বিভিন্ন সড়কে লাখ লাখ তরুণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সরকারের কাছে নানাবিধ যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সরকার সেই যুক্তিসংগত জবাব না দিয়ে আন্দোলন দমাতে লাঠি ও ব্যারিকেডের পথ বেছে নিয়েছে। বর্তমান প্রশাসন যেকোনো প্রতিবাদ ও আন্দোলনকেই সবসময় ষড়যন্ত্রের চশমা দিয়ে দেখতে অভ্যস্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Scroll to Top