আশুরা নিয়ে ফেসবুকে কী লিখলেন প্রসূন আজাদ?

ঢাকায় বড় হওয়া ময়মনসিংহের ফুলপুরের এই অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ নাটকে কাজ অনেক আগ থেকেই কমিয়ে দিয়েছেন । কাজ করেছেন চলচ্চিত্রে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ ছোটবেলায় নতুন কুঁড়িতে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০১২ সালে লাক্স বিজয়ী হওয়ার আগে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘অবগুণ্ঠন’ নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। পরে বেশ কিছুদিন পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন প্রসূন।

আগামীকাল আশুরা। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী প্রসূন নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টটি নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন ফেসবুকে। আপনিও পড়ে নিতে পাড়েন। তিনি লিখেছেন ‘পবিত্র_আশুরা সৃষ্টি জগতের অসংখ্য ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত দিন। হিজরী বর্ষের প্রথম মাস মহররম, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহররম মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরার দিবসে মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি জগতে অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে- পবিত্র আশুরার দিবসেই মহান আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক হিসেবে আরশে সমাসীন হয়েছিলেন। এ দিন আরশে সমাসীন হওয়ার মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহর অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং সে অনুষ্ঠানে সকল আদম সন্তানের রূহসমূহকে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই’? তারা বললো- ‘হ্যাঁ, আমরা স্বাক্ষী রইলাম আপনি আমাদের প্রভু’। আশুরার এই দিনে সর্বপ্রথম বৃষ্টি ও আল্লাহর রহমত দুনিয়াতে বর্ষিত হয়। মহান আল্লাহ এ দিবসে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি করে মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে বেহেশতে প্রবেশ করান। অতঃপর এ দিবসেই হযরত আদম (আঃ)-কে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়। ৩৯০ বছর কান্নাকাটি করার পর হযরত আদম (আঃ) হযরত রাসূল (সঃ)-এর উসিলায় আশুরার পবিত্র দিবসেই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পান। এ পবিত্র দিনেই হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা মহাপ্লাবন শেষে জুদী পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। পবিত্র আশুরার দিনেই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। এ দিনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পান। এ দিনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে আল্লাহর নামে কোরবানি করেন এবং এ দিবসেই ‘খলিলুল্লাহ্ ’ বা আল্লাহর বন্ধু খেতাবে ভূষিত হন। হযরত আইয়ুব (আঃ) কুষ্ঠ রোগে দীর্ঘ ১৮ বছর যন্ত্রণা ভোগের পর আশুরার এ দিবসেই আরোগ্য লাভ করেন। হযরত ইদ্রিস (আঃ)-কে এ দিবসেই জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয়। এ দিবসে হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেন। এ দিনে হযরত সোলায়মান (আঃ) হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হন। এ দিবসে হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে ৪০ দিন পর মুক্তি লাভ করেন। এ দিবসে হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ)-কে ৪০ বছর পর ফিরে পান। এ দিবসে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু হযরত মুসা (আঃ)-কে সন্তানরূপে গ্রহণ করেন। আবার এ দিবসে হযরত মুসা (আঃ) স্বীয় অনুসারীদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সদলবলে সেখানে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। এ দিনে হযরত ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ৪র্থ আসমানে উত্থিত হয়েছিলেন। এ দিনেই হযরত রাসূল (সঃ)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র, হযরত আলী কারামাল্লাহ ওয়াজহাহু ও খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এর হৃদয়ের ধন ইমাম হোসাইন (রাঃ) মাত্র ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে দুরাচার এজিদের ২২ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করে শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন’।

বাংলাদেশ সময় : ১৪১০ ঘণ্টা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭,
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/ডিএ

Scroll to Top