জামায়াতে ইসলামী এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াত এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য মাফ চায়নি, তারা ভোট চায় কীভাবে?’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুর বাজারে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেনি, ইতিহাস বলছে তারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরোধিতাও করেছিল। অর্থাত্ তারা পাকিস্তানও চায়নি, বাংলাদেশও চায়নি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অনেক মানুষ এসব ইতিহাস জানেন না। বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যে দল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা কি এই দেশকে নিরাপদে রাখতে পারবে? তারা যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে কি এ দেশের মানুষ ভালো থাকবে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা পালানোর পর থেকেই ঠাকুরগাঁয়ের রাস্তাঘাটের কাজ শুরু হয়েছে। ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে এসেছি উন্নয়ন করার জন্য। দীর্ঘ ১৬ বছর এলাকায় ফিরতে না পারার আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ১৬ বছর আপনাদের সামনে আসতে পারি নাই। তখন যে সরকারটা ছিল, সেটি ছিল জুলুমবাজ সরকার। নিজের বিরুদ্ধে মামলার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১১৭টা মামলা আমার বিরুদ্ধে। আমি নাকি ময়লার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছি—সব মিথ্যা মামলা।
তবে নতুন বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের সামনে একটি নতুন সুযোগ এসেছে। আমরা প্রতিহিংসা চাই না, আমরা হিংসা চাই না। আমি কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না। এটাই হচ্ছে বিএনপি, এটাই তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করবেন।
নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে ফখরুল বলেন, আমাদের মায়েদেরকে তারেক রহমান ট্রেনিং দেবেন যেন ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারেন। আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ভোটে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে না পারি, তাহলে আবার আমরা ভুল করব। বিএনপি আবার সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের। আজ যে গাড়িতে এসেছি, সেটিও আমার নয়, এক জন সমর্থকের।’
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আমি কাজ করা মানুষ।’







