সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বন্দরনগরী বসাসোয় যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, উত্তর সোমালিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পুন্টল্যান্ডের আল-মিসকাদ পর্বতমালার টোগা মিরালে ও টোগা বালাদে এলাকায় মার্কিন নজরদারি ড্রোন অভিযান চালায় বলে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান। তাঁদের ভাষ্য, টোগা বালাদে এলাকায় একটি গাধার গাড়িতে আইএসের সদস্যদের চলাচল শনাক্ত করার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আশপাশে বিমান হামলা চালানো হয়।
একই দিন উত্তর-পশ্চিম দিকে সানাগ অঞ্চলের আল-মাদো পাহাড়েও আরও ড্রোন নজরদারি চালানো হয়। ওই এলাকায় আল-শাবাব সক্রিয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড বা আফ্রিকম এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তবে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান অভিযান আরও বাড়তে পারে।
বসাসোয় নতুন মার্কিন ঘাঁটি
গালফ অব এডেনের তীরে অবস্থিত বসাসো উত্তর সোমালিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। শহরটি মানব পাচার ও শরণার্থী চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেও পরিচিত। পূর্ব আফ্রিকার অভিবাসীরা গালফ অব এডেন পাড়ি দিয়ে ইয়েমেন ও আরব বিশ্বের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এই অঞ্চলটি এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ গালফ অব এডেন দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এর পাশাপাশি আল-মিসকাদ পর্বতমালায় প্রায় দুই বছর ধরে পুন্টল্যান্ডের মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আঞ্চলিক বাহিনী ও আইএসের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র উত্তর সোমালিয়ার শুষ্ক ও দুর্গম পাহাড়গুলোকে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইএসবিরোধী অভিযানে সোমালি সরকারের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা ও অভিযান বাড়িয়েছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বসাসোয় নতুন ঘাঁটিটি চালু হলে সেখান থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও নজরদারি অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সিআইএও সেখানে তাদের কার্যক্রম বাড়াবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
বৈঠকের পর ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা
গত ২ আগস্ট আফ্রিকমের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল বসাসোয় পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আবদুল্লাহি দেনির সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর পুন্টল্যান্ডের স্টেট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য বসাসোয় যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় বসাসোয় তাদের সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদল পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করে।
তবে ড্রপ সাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঁচজন পৃথক পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ঘোষণাটিতে চুক্তিটির প্রকৃত গুরুত্ব পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি।
তাঁদের ভাষ্য, বসাসোয় এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না। সেখানে শুধু একটি অফিস ছিল, যা আফ্রিকম ও সিআইএর গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ওই অফিসে থাকা আফ্রিকমের সদস্যরা বিমান হামলা বা আকাশপথে সহায়তার প্রয়োজন হলে পুন্টল্যান্ডের স্থলবাহিনী ও জিবুতিতে থাকা আফ্রিকমের প্রধান কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় করেন। নতুন ঘাঁটি নির্মাণ শেষ হলে বসাসো থেকেই সরাসরি বিমান হামলা চালানো হতে পারে বলে তাঁদের দাবি।
চুক্তি নিয়ে গোপন বৈঠকের দাবি
পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, ২ আগস্টের প্রকাশ্য ঘোষণার আগেই ২৭ জুলাই ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকম কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে চুক্তিটির বড় অংশ চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওই বৈঠককে মার্কিন ঘাঁটির চুক্তি তৈরির স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা একটি চুক্তির নথি নিয়ে আসেন এবং পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ দেনির সঙ্গে সেটি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে ২ আগস্টের বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলা অনেক সোমালি কর্মকর্তা চুক্তিটির বিস্তারিত জানতেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বসাসোয় সিআইএর ভূমিকা
পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বসাসোয় বর্তমানে অবস্থানরত সিআইএর সদস্যরা আইএসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে আটক আইএস সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও বিদেশি যোদ্ধাদের জিজ্ঞাসাবাদও রয়েছে।
আবদিউয়েলি মোহামেদ ইউসুফ, যিনি আবদিউয়েলি ওয়ালালাক নামে বেশি পরিচিত, আইএস-সোমালিয়ার আটক হওয়া আলোচিত সদস্যদের একজন। পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, আটকের পর তাঁকে বসাসোয় থাকা সিআইএর ওই কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আবদিউয়েলিকে আইএসের সোমালি শাখার অর্থ কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং তাঁকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
গত বছরের ২৫ জুলাই একটি যৌথ মার্কিন-সোমালি অভিযানে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। তবে ড্রপ সাইটের সঙ্গে কথা বলা পাঁচজন পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, অভিযানটি মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছিল।
তাঁদের ভাষ্য, সোমালিয়ার বারি অঞ্চলের পাহাড়ে হেলিকপ্টারে অভিযান চালিয়ে আবদিউয়েলিকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সোমালি দোভাষী এবং পুন্টল্যান্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির কমান্ডাররাও ছিলেন।
আটকের পর তাঁকে বসাসোর সিআইএ পরিচালিত কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে দুই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। পরদিন তাঁকে প্রতিবেশী জিবুতিতে নেওয়া হয় বলেও তাঁরা জানান।
একজন পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিআইএর প্রভাব বোঝাতে বলেন, ‘এখানে তারা বড় ভাইয়ের মতো। পুন্টল্যান্ডে আইএস-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে তারা যা বলে বা করে, তা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেওয়া হয়।’
নতুন সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী
বসাসোয় মার্কিন ঘাঁটির চুক্তির অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী স্ট্রাইক ফোর্স গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে ওই বাহিনীতে কতজন সোমালি সেনা থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, সদস্যসংখ্যা এখনো ঠিক হয়নি। তবে মার্কিনরাই নতুন বাহিনীর সদস্যদের বেতন, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেবে।
সোমালিয়ায় এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠিত হয়েছে। ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পুন্টল্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্স বা পিএসএফ গঠন করেছিল। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তারা অভিযান চালিয়ে গেছে।
এ বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো এবং এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডানাব নামে একটি মার্কিন সমর্থনপুষ্ট ও প্রশিক্ষিত বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।
ট্রাম্প আমলে বেড়েছে মার্কিন হামলা
ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়ের তুলনায় বেশি বিমান হামলা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিন পর ট্রাম্প সোমালিয়ায় আইএসের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নিউ আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, এরপর সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মোট ২০৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ৫৩ শতাংশের লক্ষ্য ছিল আইএস।
২০১৫ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের প্রভাব যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল, তখন ব্রিটিশ-সোমালি ধর্মীয় নেতা আবদুলকাদির মুমিন আল-শাবাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইএসের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন এবং সোমালিয়ায় সংগঠনটির নতুন শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
পরের বছর গালফ অব এডেনের উপকূলীয় শহর কান্দালাও আইএসের সদস্যরা ৩৮ দিনের জন্য দখলে নিয়েছিল। পরে তারা আল-মিসকাদ পাহাড়ে ফিরে যায়।
পরবর্তী সময়ে সোমালিয়ায় সংগঠনটির আকার বাড়ে। বসাসোয় স্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িত হয়ে পড়ে। প্রতিবেশী ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি যোদ্ধারাও সংগঠনটির সোমালি শাখায় যোগ দিয়েছে।
আল-মিসকাদে যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতি
প্রায় ১৮ মাসের সংঘাতের পর বারি প্রদেশের আল-মিসকাদ পাহাড় থেকে আইএসের বড় অংশকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বিশাল এই পাহাড়ি এলাকায় এখনো সংগঠনটির কিছু সদস্য অবস্থান করছে।
একজন কর্মকর্তা এলাকাটিকে আফগানিস্তানের ‘তোরা বোরা’ পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ওই এলাকায় একসময় ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার নেতারা অবস্থান করতেন।
আল-মিসকাদ পাহাড়ে আগে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত বেদুইন জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো নিজেদের এলাকায় ফিরে যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আইএস সদস্যরা সেখানে গবাদিপশু লুট এবং বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘাঁটি নির্মাণে সাংবিধানিক প্রশ্ন
বসাসোয় নতুন মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠেছে।
সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পুন্টল্যান্ডের সম্পর্ক জটিল। পুন্টল্যান্ড নিজেদের কিছু বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুগত।
সোমালিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি সরকার বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের। ফলে পুন্টল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা চুক্তিটির বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: ড্রপ সাইট







