মুশফিকের ঐতিহাসিক ব্যাট ১৭ লাখ টাকায় কিনলেন আফ্রিদি

musfiq

মহামারী করোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। অবশেষে নিলামে বিক্রি হলো মুশফিকুর রহিমের সেই ঐতিহাসিক ব্যাট। সবাইকে চমকে দিয়ে নিলাম থেকে ব্যাটটি ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন’। এই ব্যাট দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি করেছিলেন মুশফিক। এই অর্থ করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

ছয়দিন ব্যাপী নিলাম শেষ হয় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১০টায়। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয় আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

অনলাইন প্লাটফর্ম ‘স্পোর্টস ফর লাইফ’ এর ফেসবুক পেজে লাইভের মাধ্যমে মুশফিকের ব্যাটের নিলামের বিজয়ী নাম ঘোষণা করেন। মুশফিক লাইভে উপস্থিত থেকে নিলামে বিজয়ীর নাম ঘোষনা করেন।

মুশফিকের ব্যাটটির ভিত্তিমূল্য ছিল ৬ লাখ টাকা। নিলামের প্রথমদিনেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল ব্যাটটির দাম। সে সময় প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাছাকাছি দাম উঠেছিল বলে শোনা গেলেও পরে জানা যায়, ওই ডাক ছিল ভুয়া। এজন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় নিলাম প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের ব্যাটটি নিলামে তুলেছিল নিবকো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘স্পোর্টস ফর লাইভ’। উদ্যোগটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে নিবকো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘পিকাবো’ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

ফেসবুক লাইভে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর তার অত্যন্ত প্রিয় ব্যাটটি কিনে নেওয়ায় আফ্রিদি ও তার ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান মুশফিক।

নিলাম থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের মাধ্যমে অসহায় মানুষদের সহায়তায় প্রদান করা হবে। বাকি অংশ দিয়ে অসহায় মানুষদের সহায়তা করবেন মুশফিক নিজেই।

মুশফিক বলেন, ‘আমার ব্যাটটি কিনে নিয়েছেন… আমি মনে করি পৃথিবীর যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন সবাই তাকে এক নামে চেনেন, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ খান আফ্রিদি। তিনি তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই ব্যাটটি কিনেছেন। অমি সত্যি খুব সম্মানিত বোধ করছি ওনার মতো এত বড় একজন ব্যক্তিত্ব এই মহৎ উদ্যেগে অংশ নিয়েছেন। তাই তার ফাউন্ডেশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

আফ্রিদির ব্যাট কেনার পেছনের ঘটনা জানাতে গিয়ে মুশফিক বলেন, ‘খবরটি দেখে আফ্রিদি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি লিঙ্ক দিই। ১৩ মে তারিখে তিনি প্রস্তাবপত্র পাঠান। তিনি ২০ হাজার মার্কিন ডলারে ( ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রায়) কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে এ দামেই তিনি কিনে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তামিম ইকবালকেও ধন্যবাদ দিতে হবে। সে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে।’

একইসঙ্গে ‘ফ্রড বিডার’দের ধিক্কার জানিয়েছেন মুশফিক।