পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে ও খাদ্য সামগ্রী পরিবহন ব্যবস্থা করা হবেঃ বাণিজ্যমন্ত্রী

Tipu Munshi

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন যে, মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবং আসন্ন রমজানে সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে ও খাদ্য সামগ্রী পরিবহনে কোনো সমস্যা যাতে না হয় সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলন, টিসিবি’র ট্রাকসেল পুনঃবিন্যাস করার বিষয় বিবেচনা করা হবে৷ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচালিত টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় স্থান সমুহে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে পাইকারি বাজার চালু করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে এবং বর্তমান কোভডি-১৯ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেও উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ মজুদরে পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি। কোনো পণ্যের ঘাটতি হবার সম্ভাবনা বা কারণ নেই। কৃত্রমি উপায়ে কোন পণ্যের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেও মজুদ আগে থেকেই বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের চাহিদার তুলনার অধিকপণ্য উৎপাদন করেছে। আমদানিযোগ্য পণ্য অনেক আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি করা হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু পণ্য পরিবহন এবং আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কোনো পণ্যেরই সংকট নেই এবং মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা বা কারন নেই। সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্বশীল হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সকল পণ্যেও সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গঠিত টাস্কফোর্স এবং বিভিন্ন কমিটিকে আরও তৎপর হয়ে কাজ করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবছর রমজান উপলক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সয়াবিন তেল, মশুরডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর সাশ্রয়ী মূলে ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রয় করছে। টিসিবি’র মাধ্যমে বিগত যেকোনো বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমানে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। টিসিবি’র নিয়োগ প্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার ডিলার এসকল পণ্য ট্রাকসেলে বিক্রয় করছে। ইতোমধ্যে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম ধরা পড়ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৯০টি বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া টিসিবি’র কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য ঢাকাতে ৮টি এবং ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকে মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান জোরদার করেছে। আশা করা যায়, কোনো সমস্যা হবে না।

সভায় জানানো হয়, ডলারের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হবে। চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনারজট নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সাথে নিবির ভাবে যোগাযোগ রেখে, প্রয়োজনে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিদিনের বাজার দর সিটি করপোরেশনকে সরবরাহ করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা, জেলা প্রশাসন ঢাকা রমজান উপলক্ষে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে৷

এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর তাদের অভিযান আরও জোরদার করবে এবং একই সাথে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাণিজ্য সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় অব্যাহত রাখবে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের বাজারে এর বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ ঔষধ সামগ্রী বিকল্প বাজার সন্ধানে এখন থেকেই আমদানি কারকগণ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, টিসিবি সারা বছরব্যাপী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সার্বক্ষনিক তৎপর থাকবে এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত টাস্কফোর্স আরও জোরদার ভাবে কাজ করবে।

সভাটি সঞ্চালনা করনে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন। সভায় বাংলাদশে ট্রডে এন্ড ট্যারফি কমশিনরে চয়োরম্যান তপন কান্তি ঘোষ, জাতীয় ভোক্তা অধকিার সংরক্ষণ অধদিপ্তররে মহাপরচিালক বাবলু কুমার সাহা, বাণজ্যি মন্ত্রণালয়রে অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, ডিজিএফআই, এনএসআই, স্পশোল ব্যাঞ্চ এর প্রতিনিধি, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রি. জে. মো. হাসান জাহাঙ্গীর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, ঢাকা এর প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিকির্পোরশেন এর প্রতনিধিগিণ, এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল, এস আলম গ্রুপ এর সনিয়ির জনোরলে ম্যানজোর সালাহ উদ্দনি, দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ, এসিআই গ্রুপের প্রতিনিধি, দোকান মালিক সমিতি ঢাকা ও মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ঢাকা এর সভাপতিরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক ও পাইকারী বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।