বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৫ বছর শুধু বগুড়াই বঞ্চিত ছিল না। ১৫ বছর বগুড়া তো বঞ্চিত ছিলই, বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশও সত্যিকারভাবে বঞ্চিত ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় বগুড়াবাসী এর আগে যখন আমি দেশে ছিলাম আজকে থেকে ১৯ বছর আগে, কমবেশি এখানে প্রত্যেকটা মানুষ যারা সেদিন আমার বয়সি ছিলেন বা আমার থেকে একটু ছোট ছিলেন বা আমার থেকে বড় ছিলেন, আমি অনেক নতুন প্রজন্মের মানুষকে দেখছি। তারা হয়তো তখন অনেক ছোট ছিল হয়তো আমাকে দেখেছে বা দেখে নাই অনেকেই। কিন্তু যারা আমাকে দেখেছিলেন এবং সেই স্মৃতি মনে আছে নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে, বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যেই কাজগুলো করা দরকার ছিল আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজগুলো কমবেশি করার জন্য। হয়তো আমরা ১০০% সাকসেসফুল হইনি কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন কানুন রীতিনীতির মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি।
তারেক রহমান বলেন, এই বনানী মাটিডালি রাস্তাই বলুন এই চওড়া রাস্তাই বলুন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বলুন, গ্যাসের লাইনের কথা বলুন, এরকম আরও বিভিন্ন উন্নয়নের কাজের কথা বলুন না কেন, যা যা মানুষের প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করেছি এই বগুড়াতে কাজগুলো করার জন্য। বগুড়া ছিল আমার কাছে একটি মডেল জেলার মতন। কারণ আমি সবসময় চিন্তা করতাম যে বাংলাদেশের আর ৬৩ জেলাকে কীভাবে কোনোদিন যদি আল্লাহ সুযোগ দেয় কোনোদিন যদি আল্লাহ রহমত দেয় তাহলে ওই বাকি যে ৬৩টা জেলা আছে বগুড়া বাদ দিয়ে, সেই ৬৩ জেলাকে কীভাবে সাজাবো এই কাজগুলো আমি বগুড়ায় করতাম। মানুষের একটি জেলার মৌলিক যে প্রয়োজনগুলো সেই মৌলিক প্রয়োজনগুলো ধীরে ধীরে আমরা বগুড়ায় তৈরি করেছিলাম।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কমবেশি আমরা গর্বের সাথে বলতে পারবো আমরা যতটুকুই কাজ আপনাদের সকলকে সাথে নিয়ে সকলের সহযোগিতায় ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যতটুকুই আমরা করতে পেরেছিলাম। বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে আমরা বেশি কাজ করেছিলাম, যেকোনো জেলা থেকে আমরা ভালো কাজ করেছিলাম। এবং সেজন্যই আমি এটাকে মডেল জেলা বলে থাকি। এটি আমার নিজের কাছে মডেল, কারণ এই জেলায় একটি মানুষের, সে যেই শ্রেণিরই মানুষ হোক না কেন মোটামুটি যা কিছু প্রয়োজন চলার জন্য সবকিছু কিন্তু বগুড়া শহরে আছে। মোটামুটি সবকিছু কিন্তু বগুড়া শহরে আছে। খুব বেশি ঢাকা শহর বা অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না দু-একটা কাজ ছাড়া। কিন্তু অনেক জেলাই আছে কিছু হলেই তাদেরকে চলে যেতে হয় ঢাকায়। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে বগুড়ায় আমরা সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় বগুড়াবাসী সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমাদেরকে দেশের মানুষকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই নির্বাচনটি শুধু নির্বাচনই নয় এই নির্বাচনটি নিশ্চিত করবে আগামী দিনে এই দেশের মানুষের এই দেশের মানুষের জবাবদিহিতামূলক সরকার তৈরি হবে কি হবে না। সেই জন্যেই আজকে বগুড়াবাসীর কাছে আমার আহ্বান থাকবে অনুরোধ থাকবে যে এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদেরকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। কারণ এই নির্বাচন আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দেবে যে আগামী দিনে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই অবশ্যই তাহলে আমাদেরকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে এবং তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আপনারা সুযোগ দিন ইনশাআল্লাহ যতটুকু সম্ভব আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করলে ১২ তারিখে যতটুকু সম্ভব সে ব্যাপারে আমার মনে হয় না কারো চিন্তা করার প্রয়োজন আছে। তবে আজকে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমার যেই অবস্থানটি ছিল আজকে কিন্তু আমার অবস্থানটি যেহেতু আপনারা ঘরের মানুষ আপনাদের সামনে আমি একটি কথা শেয়ার করতে চাই। ২০০১ থেকে ২০০৬ আমার একটি অবস্থান ছিল আজকে আমার অবস্থানটি ভিন্ন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমি বগুড়াকে যেভাবে দেখতাম আগামী দিনেও ইনশাআল্লাহ অবশ্যই সেভাবে দেখবো। তবে এই যে একটু আগে একটা কথা বলেছেন একজন প্রার্থী আমাদের বলেছেন যে গত ১৫ বছর ধরে বগুড়া বঞ্চিত ছিল একটি কথা একজন বলেছেন। বগুড়াই শুধু বঞ্চিত ছিল না গত ১৫ বছর ধরে। গত ১৫ বছর বগুড়া তো বঞ্চিত ছিলই বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশও সত্যিকারভাবে বঞ্চিত ছিল।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কাজেই আজকে আপনারা যারা বগুড়াবাসী আপনারা যারা বগুড়ার মানুষ আগামী দিনে যদি আল্লাহ আমাদেরকে সেই রহমত দেয় সেই সুযোগ দেয় দেশ পরিচালনা করার তাহলে এই আপনাদের সকলকে চিন্তা করতে হবে যে শুধু আমরা বগুড়ার কথা চিন্তা করব কিন্তু শুধু বগুড়া না আমাদেরকে সমগ্রভাবে দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। বগুড়াকে যেমন আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাব ঠিক একইভাবে আমাদেরকে সমগ্র দেশকে সাথে টানতে হবে। সামগ্রিকভাবে সমগ্র দেশ কিন্তু গত ১৫ বছর সত্যিকার মানুষের যেই কাজগুলো সেই কাজগুলো থেকে সমগ্র দেশ কিন্তু বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে দেশের মানুষ চিকিৎসা সুবিধা ঠিকভাবে পায় নাই। দেশের কৃষকরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দেশের ছাত্র ছাত্রীরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা যদি এভাবে দেখি প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি সরকার বা দেশের যতগুলো সেক্টর থাকে গত ১৫-১৬ বছরে কলকারখানা কোনো কিছু সঠিকভাবে গড়ে উঠতে দেয় নাই। শুধু একটি কাজ হয়েছে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে তথাকথিত এবং মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কাজেই কাজেই আমাদের সকলকে আগামী দিন আল্লাহ রহমত দিলে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যেভাবে হোক এই দুর্নীতিকে আমাদের টুটি চেপে ধরতে হবে। এই দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমেই আমাদেরকে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কাজেই প্রিয় ভাই ও বোনেরা আগামী দিনে আল্লাহ চাইলে তো আমরা সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। সমগ্র বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সাথে সাথে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। আর চাকরি বাকরি অথবা ব্যবসা বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। যেহেতু যেহেতু আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না যে অন্য কেউ আমাদেরকে কোনো বিতর্কিত অবস্থানে ফেলুক যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে আমরা বগুড়া না বলে পাচ্ছি না আমরা কি চাই এরকম বলুক মানুষ? আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না। সেই জন্যই বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। কিন্তু একই সাথে আমরা খেয়াল রাখবো আমাদের ন্যায্য অধিকার পেতে গিয়ে অন্যের ন্যায্য অধিকার যাতে আমরা নষ্ট না করি অন্যের ন্যায্য অধিকার থেকে তাকে যাতে আমরা বঞ্চিত না করি এই বিষয়টি আমাদেরকে অত্যন্ত সতর্কভাবে খেয়াল রাখতে হবে।







