করোনাঃ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের মরার উপর খাঁড়ার ঘা!

Malaysian expatriate

মুসলিম হিসেবে মালয়েশিয়ানদের মধ্যে বাংলাদেশিদের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা আছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েবাংলাদেশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র ও শিক্ষক আছেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম অবস্থানে আছে চাইনিজ ছাত্র-ছাত্রীগণ।

মালয়েশিয়াতে কর্মক্ষেত্রেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে মালয়েশিয়ান ও চাইনিজ ফ্যাক্টরি মালিকদের কাছে। মালয়েশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে চাইনিজদের প্রভাব ও আধিপত্য বেশি। বলা চলে মালয়েশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য চাইনিজদেরই নিয়ন্ত্রণে। ইন্ডিয়ান তামিলদের মধ্যেও যথেষ্ট ব্যবসায়ী আছেন। পাকিস্তানি প্রবাসীগণ অধিকাংশই ব্যবসায়ী। ইন্দোনেশিয়া আর ফিলিপাইন প্রবাসীগণ অধিকাংশই বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আর দোকানে কাজ করেন।

তবে বিগত কয়েক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশিরাও। বেশ কয়েক বছর যাবত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবসা ও চাকরি করে আসলেও এবার কোভিড- ১৯ আসে বাংলাদেশিদের জন্য অনেকটা অভিশাপ রূপে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়ে টানা তিন মাসের মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এর কবলে পড়ে বেকার হয়ে আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়ে কয়েক লাখ প্রবাসী। মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার চলার মাঝে মালয়েশিয়ান ইমগ্রেশনের চালানো কয়েকটা ধরপাকড় অভিযানে তারা হয়ে পড়ে অনেকটা হতাশ। এর মাঝে বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান গুলোতে আচমকা সিটি কর্পোরেশনের সাঁড়াশি অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গ্রেফতার হয় বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও কিছু কর্মচারী।

এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! লোক মুখে শোনা যায় সিটি কর্পোরেশনের অভিযান হলেও অন্য দেশীয় বংশদ্ভুত স্থানীয় মালয়েশিয়ানদের হিংসার বহিঃপ্রকাশ এসব। এরপর গত ৪ মে থেকে কিছু বিধি নিষেধ মেনে এবং কোভিড- ১৯ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে শিথিল করা হয় মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার। তবে বিধি নিষেধ আর কোভিড- ১৯ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এর বেড়াজালে পড়ে এখনো খুলতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এখনো কাজে যোগাদান করতে পারেনি কয়েক হাজার বাংলাদেশি।

এমতবস্থায় সেখানে অবস্থানকারী শ্রমিকদের পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীও এখন প্রায় নিঃস্ব। পাশাপাশি বর্তমানে অন্য দেশীয় বংশদ্ভুত স্থানীয় মালয়েশিয়ানদের সেই অপতৎপরতা এখনো বিদ্যমান থাকায় অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অনেকটা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যবসায়ী বলেন, খুব অল্প সময়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখানে সুনামের সাথে ভালো অবস্থান তৈরি করে নেওয়াতে এ গোষ্ঠীর চক্ষুশূল এখন বাংলাদেশিরা। কারণ ওদের বেশির ভাগ এর পছন্দ চুরি, ছিনতাই, হাইজ্যাকসহ নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ড। তাই বাংলাদেশিদের ভালো কিছু ওদের হিংসার কারণ।

কেউ কেউ বলছেন, বিগত সরকারের গত দুই বছরে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং পদে পদে বাংলাদেশিদের হয়রানীর শিকার করছে। আবার অনেকের মতে, বিরাট সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিগণ প্রায় অধিকাংশই দায়িত্বশীল ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অভিভাবকত্বের অভাবে বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন এখানে।