মার্কিন নির্বাচনঃ বাইডেনের বিজয়ে প্রবাসীদের আনন্দ র‌্যালি

Victory_Rally

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের বিজয় বার্তা প্রচারের সাথে সাথে বাধ ভাঙা জোয়ারের ন্যায় রাস্তায় নেমে উল্লাস করেছেন তার ভক্ত-সমর্থকরা। যারা গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তারা লাগাতার হর্ন বাজিয়ে নিজেদের আনন্দের প্রকাশ করেছেন। বহুতলা ভবনের জানালায় পতাকা নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছেন বাইডেন-কমলা জুটিকে।

নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া থেকে দেলওয়ারে, ম্যারিল্যান্ড-ভার্জিনিয়া-মিশিগান-ফ্লোরিডা-জর্জিয়া-টেক্সাস-ক্যালিফোর্নিয়া সর্বত্র বিজয়-সমাবেশে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার, কলম্বাস সার্কেল, ইউনিয়ন স্কোয়ার, ন্যাশনাল মল, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের সিটি, সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক ভূমি সর্বত্র মুখরিত হয় বাইডেন-কমলা শ্লোগানে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান শহরে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

টাইমস স্কোয়ারে সমাবেশে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূূলের সংগঠক খোরশেদ খন্দকার ব্যানারসহ মিছিলের নেতৃত্ব প্রদানের সময় বলেন, ‘এ বিজয়ের ঢেউ ছড়িয়ে দিতে হবে আমেরিকার সীমানা পেড়িয়ে গোটা বিশ্বে। গত চার বছরে ট্রাম্পের আচরণে মিত্রহীন হয়ে পড়েছে আমেরিকা। বাইডেন-কমলার নেতৃত্বে তা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

যুুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া বললেন, এ বিজয় ব্যক্তি বাইডেন অথবা কমলা হ্যারিসের নয়। এ বিজয় সভ্য সমাজের গোটা জনগোষ্ঠীর। একে সমুন্নত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রিপাবলিকান পার্টির নেতা গিয়াস আহমেদ বাইডেন-কমলার বিজয়ের আনন্দে উল্লাস করে বলেন, ‘সামনের দিনে সকল প্রবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ন্যায়ের শাসনের পক্ষে। আর মার্কিন প্রশাসনে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করতে বাংলাদেশি হিসেবে নয়, মুসলমান হিসেবে জোট গড়তে হবে। কারণ, সারা আমেরিকায় কয়েক মিলিয়ন মুসলিম ভোটার রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হলে ভোটের ময়দানে গুরুত্ব বাড়বে।’

বিজয়ের উল্লাস প্রকাশে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় এক সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ এন মজুমদার। তিনি বলেন, এ বিজয় গোটা অভিবাসী সমাজের। এ বিজয় খেটে খাওয়া মানুষের। এ বিজয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের।

যুবনেতা জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন মঞ্জুর চৌধুরী, তোফায়েল চৌধুরী, সাঈদুর রহমান লিঙ্কন, জাকির চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরাও ছিলেন সেখানে।

জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মিষ্টি বিতরণ করা হয় বিজয়ের আনন্দে উদ্ভাসিতদের মধ্যে। সংগঠনের সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুলের সঞ্চালনায় পালকি পার্টি সেন্টারের বিজয় সমাবেশে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই উত্থানকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ফাহাদ সোলায়মান।

লং আইল্যান্ডের ‘বাংলাদেশ-আমেরিকা প্রগেসিভ এলায়েন্স’র পক্ষে গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, ঐতিহাসিক একটি বিজয়ের সাক্ষী হলাম বাঙালিরাও। কারণ, অনেকেই এবার বাইডেন-কমলা জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

‘আমেরিকা-বাংলাদেশ এলায়েন্স’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘অভিবাসী সমাজে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর হওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাস নিয়ে যে তামাশা শুরু হয়েছিল, ট্রাম্পের পতনে তা দূর হবে। সে প্রত্যাশায় মানুষ বিজয়ী করেছেন বাইডেন-কমলাকে।’

শনিবার সন্ধ্যায় নিজ এলাকা দেলওয়ারে স্টেটে স্থাপিত নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির অফিসের সামনে বিজয় সমাবেশে বাইডেন ও কমলা হ্যারিস বক্তব্য দেন। সেখানেও ছিলেন কয়েক শত প্রবাসী। ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড থেকে তারা বিজয়-সমাবেশে অংশ নেন।