রামোসের না থাকাই ভোগালো রিয়ালকে

Ramos

আগেই আলোচনা হচ্ছিল, রামোসের না থাকা নিয়ে। প্রথম লেগে লাল কার্ড দেখে এই ম্যাচে খেলতে না পারা রামোসের অভাব ঠিক কতটুকু ভোগাবে রিয়ালকে। রামোসের জায়গায় মাঠে নামা এদের মিলিতাও রাফায়েল ভারানের সঙ্গে কতটুকু সফল হতে পারবেন। রামোসহীন রিয়াল-রক্ষণভাগকে ভারান কীভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সিটির ঘর থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন।

প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তরেই রিয়ালের জন্য বরাদ্ধ হয়েছে একরাশ হতাশা। দলের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে উল্টো‌ রাফায়েল ভারান ভজকট পাকিয়ে ফেলেছেন। আর তারই চড়া মাশুল দিয়েছে রিয়াল। ভারানের জোড়া ভুলের এই ম্যাচে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যে ম্যাচে রিয়ালের নূন্যতম দুই গোল করার কথা ছিল, সেখানে তারাই খেয়ে বসল দুই গোল। ফলে দুই লেগ শেষে ৪-২ গোলের অগ্রগামিতা বজায় রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পরের দুই মৌসুমেই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়ার হতাশা সঙ্গী হয়েছে রিয়ালের। জিনেদিন জিদান পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার স্বাদ।

গতবারও দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ার পেছনে রিয়াল মাদ্রিদের মূল কারণ ছিল দ্বিতীয় লেগে অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক সার্জিও রামোসের অনুপস্থিতি। এবারও তাই। রামোসের না থাকা যে কতটা ভুগিয়েছে, সেটা বোঝা গেছে ম্যাচের প্রথম থেকেই।

স্টার্লিং-জেসুসরা জানতেন, রামোসহীন রিয়াল রক্ষণ ঝামেলায় পড়বেন। অধিনায়ক না থাকা সত্ত্বেও নিচ থেকে খেলা গড়তে চেয়েছিলেন রিয়াল তারকারা। একদমই কাজে লাগেনি সেই কৌশল। প্রথম গোলটা শুধু সে কারণেই খেয়েছে রিয়াল। সিটি তারকারা প্রেস করে যাচ্ছিলেন রিয়ালের বক্সের ভেতর পর্যন্ত। পাস দিতে গিয়ে কোর্তোয়াও তাই চাপে পড়ে যান। ভারানকে কোনোরকমে পাস দিতে পারলেও ঝামেলা হয়ে যায় ভারানের জন্য। জেসুসের কাছে বল হারিয়ে বসলেন বিপজ্জনক জায়গায়। মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা স্টার্লিংয়ের দিকে বল এগিয়ে দিলেন। ইংলিশ তারকার শুধু পা টা ঠেকালেই গোল হয়ে যেত, যে কাজটা তিনি করেছেন কোনো ভুল ছাড়াই। ব্যস, দশ মিনিটের মধ্যেই এক গোলে পিছিয়ে গেল রিয়াল!

রিয়ালের আক্রমণভাগের ডানদিকে কে খেলবেন, ম্যাচ শুরুর আগে সেটা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। অবশেষে ইসকো, ভিনিসিয়ুস বা ফেদেরিকো ভালভার্দেকে না নামিয়ে রফ্রিগোকে খেলান জিদান। সে ফাটকাটাও কাজে লেগে গিয়েছিল। ২৯ মিনিটে রদ্রিগো বাম প্রান্তে সিটির লেফটব্যাক জোয়াও ক্যানসেলোকে বোকা বানিয়ে দারুণভাবে কাটিয়ে ক্রস করলেন। বেনজেমার শুধু মাথা ঠেকালেই হতো। এ ম্যাচে সিটির সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলা ফার্নান্দিনহোকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে সমতায় ফেরান বেনজেমা।

কিন্তু গোল দিয়েও লাভ হলো কোথায়? এই ম্যাচে যে ভারান একাই সব আলো ‘কেড়ে’ নিতে চেয়েছিলেন! মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল হেড করে নিয়ন্ত্রণ করে গোলরক্ষক কোর্তোয়ার কাছে পাঠাতে চেয়েছিলেন ভারান। পারেননি। উল্টো‌ পেছনে তক্কে তক্কে থাকা সিটি স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ভারানের ভাগ্যে আবারও জোটে একরাশ হতাশা।

ম্যাচ খেলতে না পারলেও দলের সঙ্গে এসেছিলেন রামোস। ইতিহাদের গ্যালারিতে বসে পুরোটা সময়ই দলকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে গেছেন। সেখান থেকেই দেখেছেন নিজের রক্ষণসঙ্গীর একের পর এক ভুল।

এর আগে ২০১০-১১ মৌসুমে বার্সেলোনার কোচ হয়ে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করেছিলেন গার্দিওলা। এবার দ্বিতীয়বার একই কাজ করলেন। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবকে দুইবার বাদ দেওয়া কোচের তালিকায় আগে ছিলেন শুধু মার্সেলো লিপ্পি আর অটোমার হিটজফিল্ড। এবার সে তালিকায় নাম লেখালেন গার্দিওলাও। পরের রাউন্ডে সিটির প্রতিপক্ষ জুভেন্টাসকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ওঠা অলিম্পিক লিওঁ।