প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জায়গা করে নিল যুক্তরাষ্ট্র

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ শুরু করার মতো সুবিধা ফুটবলে খুব কম দলই পায়। সেই সুবিধাকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু বিশ্বকাপ শুরু করেনি, স্বাগতিক দেশগুলোর সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী জয়ের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের প্রথম ম্যাচে এর চেয়ে বড় জয় খুব কমই দেখা গেছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এই জয় এখন স্বাগতিকদের পঞ্চম বৃহত্তম উদ্বোধনী জয়।

১. ইতালি ৭-১ যুক্তরাষ্ট্র (১৯৩৪)

স্বাগতিক দেশের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী জয়ের রেকর্ডটি এখনও ইতালির দখলে। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে রোমে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ইতালিয়ানরা।

সেই ম্যাচে বোলোনিয়ার ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেলো স্কিয়াভিও হ্যাটট্রিক করেন। রাইমন্ডো অরসি জোড়া গোল করেন। এছাড়া জিওভান্নি ফেরারি ও কিংবদন্তি জিউসেপ্পে মিয়াজ্জাও গোলের দেখা পান। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে ইতালি।

২. রাশিয়া ৫-০ সৌদি আরব (২০১৮)

২০১৮ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল রাশিয়া। ইউরি গাজিনস্কির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ডেনিস চেরিশেভ জোড়া গোল করেন। আর্তেম জিউবা ও আলেক্সান্দার গোলভিনও গোলের খাতায় নাম লেখান। সেই আসরে রাশিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। পরে টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়।

৩. ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো (১৯৫০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল ব্রাজিল। মারাকানায় উদ্বোধনী ম্যাচেই তারা মেক্সিকোকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শক্তির জানান দেয়। আদেমির জোড়া গোল করেন। জাইর ও বালতাজার একটি করে গোল যোগ করেন। তবে দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি ব্রাজিলের। ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে যায় তারা। ইতিহাসে যা ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত।

৪. যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ প্যারাগুয়ে (২০২৬)

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় এখন তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।

ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোলের পাশাপাশি ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন জোড়া গোল করেন। যোগ করা সময়ে গোল করেন জিও রেইনা। ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই শিরোপা প্রত্যাশী দলগুলোর কাছে নিজেদের শক্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে দেশটিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যেভাবে বেড়েছে, এই জয় সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

৫. ফ্রান্স ৩-০ দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৯৮)

১৯৯৮ বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে যাত্রা শুরু করেছিল ফ্রান্স। মার্সেইয়ের ভেলোড্রোম স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে তারা।

ক্রিস্তফ দুগারি প্রথম গোল করেন। এরপর একটি আত্মঘাতী গোল ফরাসিদের ব্যবধান বাড়ায়। ম্যাচের শেষদিকে গোল করেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ফরোয়ার্ড—থিয়েরি অঁরি। পরবর্তীতে যিনি ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা প্রায়ই কাজে লাগাতে পেরেছে স্বাগতিক দেশগুলো। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে, ১৯৩৪ সালে ইতালি, ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড, ১৯৭৪ সালে জার্মানি, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতেছে। এবার সেই স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোও। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে অন্তত নিজেদের শক্তিমত্তা দেখালো পচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র।

Scroll to Top