উস্কানি দিলে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের আছে: নরেন্দ্র মোদি

Narendra Modi

নাম না করে চীনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘উস্কানি দিলে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের আছে’ । গত ১৫ জুন রাতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা এলাকায় ভারত-চীন সেনা সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার প্রাণহানির ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মোদি।

নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আজ বুধবার দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে মোদির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত শান্তি চায়, কিন্তু উস্কানি দিলে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তার যোগ্য জবাব দেওয়ার শক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আছে।

মোদি বলেন, ভারত সাংস্কৃতিক দিক থেকে একটি শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র। আমাদের ইতিহাসও শান্তিপ্রিয়। আমরা কলিযুগে গোটা সংসারে শান্তি স্থাপন করেছি ও মানুব সমাজের কল্যাণে প্রার্থনা করেছি। আমরা সবসময়ই প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান মেনে কাজ করে আসছি। আমরা সবসময় প্রতিবেশিদের অগ্রগতি ও কল্যাণে প্রার্থনা করেছি। যেখানেই আমাদের মতের অমিল হয়েছে সবসময় চেষ্ট করেছি যে ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয়। চেষ্টা করেছি মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা কখনও কাউকে উস্কানি দিই না কিন্তু আমাদের নিজেদের দেশের একতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোন সমঝোতা করি না। যখনই সময় এসেছে, তখনই দেশের একতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছি, ক্ষমতা দেখিয়েছি।

মোদির অভিমত, ত্যাগ ও প্রতীক্ষা আমাদের দেশের বৈশিষ্ঠ্য। তেমনি বীরত্ব ও সাহসিকতাও দেশের চরিত্র। আমি দেশকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই যে আমাদের জওয়ানদের বলিদান কখনও বিফলে যাবে না। আমাদের কাছে দেশের একতা ও সার্বভৌমত্বই সবার উপরে এবং তা রক্ষা করতে আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। এব্যাপারে কারও মনে কোন ভুল ধারনা না থাকাই ভাল।

এসময় নরেন্দ্র মোদির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভারত শান্তি চায়। কিন্তু যে কোন উস্কানির জবাব দিতে ভারত সক্ষম-তা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। আমাদের নিহত সেনাদের প্রতি দেশের গর্ব হওয়া উচিত যে তারা মারতে মারতে মরেছে।

এরপর নিহত সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সাথেই ভার্চুয়াল মিটিং’এ উপস্থিত অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন।