ভারতের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচও’র উদ্বেগ

WHO

এখন ভারতে চলছে মহামারি করোনার সংক্রমণের সুনামি । প্রতিদিনই প্রণঘাতি এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ছে দেশটি। ভারতের করোনা রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস। এ সংকটের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশটির পাশে দাঁড়াবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার (২৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘ভারতের পরিস্থিতি হৃদয়বিদারকেরও অতীত। দেশটিকে সহায়তায় চিকিৎসা সরঞ্জাম দেয়াসহ যা যা করা দরকার, ডব্লিউএইচও তার সবই করবে।’

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ভারতে হাজার হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ভ্রাম্যমাণ ফিল্ড হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরির কাজে দরকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে।’

গেব্রিয়েসুস বলেন, পোলিও, যক্ষ্মাসহ ডব্লিউএইচওর অন্যান্য কর্মসূচিতে নিয়োজিত থাকা ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞকে ভারতে পাঠানো হয়েছে। তারা মহামারি মোকাবিলায় ভারতের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সহায়তা করবেন।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, করোনা মহামারি শুরুর প্রথম পাঁচ মাসে যে পরিমাণ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে, গত এক সপ্তাহেই প্রায় একই সংখ্যক মানুষ এ ভাইরাসের কবলে পড়েছে।

ডব্লিউএইচওর কোভিড-১৯ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল দলের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে করোনা শনাক্তের সংখ্যায় এমন বৃদ্ধি আসলেই বিস্ময়কর।’

ভারতই শুধু সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভয়াবহ দৃশ্য দেখছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপক মাত্রায় সংক্রমণ বেড়েছে। সতর্ক না হলে অন্যান্য দেশও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। আমরা ভঙ্গুর এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে।’

এদিকে ভারতজুড়ে থামছে না আর্তনাদ। মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হওয়া দেশটির হাসপাতালগুলোতে মিলছে না চিকিৎসা সেবা। বাসাবাড়ি ও গাড়িতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে গিয়েও রাজ্যে রাজ্যে হাহাকার চরমে। মিলছে না একটু অক্সিজেনও। দেশটিতে একদিনে ফের সোয়া তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ২ হাজার ৮১২ জন।

এ অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে কোভিড লড়াইয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সারাবিশ্ব থেকে যখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে চীন।