মেসি ও রোনালদোর লাস্ট ড্যান্স

ফুটবল দুনিয়ার দুই অবিসংবাদিত সম্রাট লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিগত দেড় দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে বুঁদ করে রাখা এই দুই মহাতারকা ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে দাঁড়িয়েও আরও একবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এক চরম মহাকাব্যের।

বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শেষ অধ্যায়টি রাঙাতে দুজনেই এখন পাখির চোখ করছেন আসন্ন বিশ্বকাপকে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যা পরিচিতি পেয়েছে এক অবিস্মরণীয় ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’ (শেষ নৃত্য) হিসেবে।

ইতিমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই খেলোয়াড় নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন অসংখ্য রেকর্ড এবং ট্রফি। তবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপকে ঘিরে দুজনের তাড়না এখনো ফুরিয়ে যায়নি। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য ট্রফি এনে দিয়ে মেসি নিজের ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেলেও, ফুটবলের প্রতি তার ক্ষুধা এখনো কমেনি। অন্যদিকে পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ক্যারিয়ারের একমাত্র শূন্যস্থানটি পূরণ করতে মরিয়া হয়ে আছেন।

ষষ্ঠবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ার এক অনন্য কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এই দুই কিংবদন্তি। এর আগে কোনো ফুটবলার টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করতে পারেননি। বয়সের খেরোখাতায় দুজনের কেউই এখন আর তরুণ নন, গতি আর শারীরিক সক্ষমতায় কিছুটা ভাটা পড়লেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে তারা এখন যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে। আর এই অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই তারা নিজেদের দলকে আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, এই বিশ্বকাপটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয় বরং এটি একটি যুগের অবসান। মেসি এবং রোনালদোর এই দ্বৈরথ ফুটবল বিশ্বকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে, তা আগামী দিনে রূপকথার মতো শোনাবে। মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও দুজনের মনেই একে অপরের প্রতি রয়েছে অগাধ সম্মান। আর তাই ফুটবল রোমান্টিকরা আশা করছেন, মাঠের এই শেষ লড়াইয়ে যেন দুই তারকাই তাদের ক্যারিয়ারের সেরা ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্ববাসীকে বিমোহিত করতে পারেন।

সময়ের নিয়ম মেনে একদিন সবাইকে বিদায় নিতে হয়, মেসি-রোনালদোও তার ব্যতিক্রম নন। তবে বিশ্বমঞ্চে তাদের এই শেষ যাত্রা যেন রূপালি পর্দার কোনো ব্লকবাস্টার সিনেমার চেয়ে কম নয়। কোটি কোটি ভক্তের প্রার্থনা আর বুকভরা আশা নিয়ে এই দুই জাদুকর যখন মাঠে নামবেন, তখন থমকে যাবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

বিডি প্রতিদিন/এনএইচ

Scroll to Top