ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যা বলছেন নেতানিয়াহু: সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘বাস্তবতা বিকৃত’ এবং ‘মিথ্যা দাবি’ করার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।

তার দাবি, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা রয়েছে- এমন বক্তব্য দিয়ে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য ইসরায়েলে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজেনকোট এ অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছেন। ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক বোমাই ছিল না। তিনি ইসরায়েলি জনগণকে ভয় দেখানোর জন্য বাস্তবতাকে বিকৃত করছেন।”

নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
আইজেনকোট মূলত গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এক সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন।

ওই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, “পারমাণবিক বোমার মাধ্যমে আমাদের ধ্বংসের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে আমি দু’বার ইরানে প্রবেশ করেছি। তখন সেই বোমাগুলো তাদের হাতেই ছিল।”

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী নেতারা দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।

ইরানের অবস্থান
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা, কৃষি গবেষণা এবং অন্যান্য বেসামরিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার; পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি তাদের নীতির অংশ নয়।

বাড়তে পারে রাজনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের প্রকাশ্য বিরোধ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও সামরিক অবস্থান নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা চলমান থাকায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির একজন সাবেক সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Scroll to Top