রাজধানীর গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে পুরনো নৈরাজ্য, স্বাস্থ্যবিধি উধাও!

gonoporibohon

মহামারী করোনার তাণ্ডবে পরিবর্তন হয়েছিলো গণপরিবহনের ভাড়াসহ বিভিবন্ন নিয়ম কানুনের। এখন রাজধানীর গণপরিবহন আগের ভাড়ায় ফিরলেও করোনাকালের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য এখনো থামেনি। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই হচ্ছে বাকবিতণ্ডা।

পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। যাত্রীরা বলছেন, আগের ভাড়ার কথা মনে করিয়ে না দিলে নিজ ইচ্ছায় আগের ভাড়া নিচ্ছে না পরিবহনগুলো। আর এসব কারণেই বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়া নিয়ে কোনো নৈরাজ্য নেই। আগের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে মাঝে-মধ্যে যে বেশি ভাড়া নেওয়া হয়, সেটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

আর করোনা থেকে রক্ষা পেতে যে স্বাস্থ্যবিধি সরকারে নির্দেশনায় রয়েছে তার বালাই নেই কোনো পরিবহনে। যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি। নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি গণপরিবহন ঘুরে দেখা যায়, ভাড়া নিয়ে অনেক বাসে যাত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে হরহামেশা। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে অনেক কন্ডাক্টর।

মিডওয়ে পরিবহনের যাত্রী আব্দুস সালাম বলেন আগের ভাড়ার কথা কন্ডাক্টরদের মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে। তা না হলে তারা করোনাকালের জন্য যে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল সেই ভাড়াই রেখে দিচ্ছে। আমার থেকেও এমন করা হয়েছে।

মিরপুর ১১ এলাকার বাসিন্দা তরু আহমেদ বলেন, কালশী থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভাড়া ৪০ টাকা, কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।

পল্লবী পরিবহনের যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব ভাড়া ১৮ টাকা, করোনাকালীন এখান থেকে ৩৫ টাকার মতো আদায় করা হতো। কিন্তু আজ ২৫ টাকা নিয়েছে।

বিকল্প পরিবহনের চালক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, আমরা আগের ভাড়াই আদায় করছি। কিন্তু কিছু কিছু যাত্রী সেই ভাড়াও দিতে চায় না। যে কারণে কারও কারও সঙ্গে ঝামেলা হয়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, কোনো যাত্রীর কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ এলে সেই পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।