প্লেব্যাকের সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের দেশে ফেরা হচ্ছে না

প্লেব্যাকের সম্রাট এন্ড্রু কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গেল, প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা নেয়ার পর অনেকটাই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে তার। কিছু দিন আগে শোনা গিয়েছিল মার্চের শেষের দিকে দেশে ফিরবেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ফেরা হচ্ছে না।

লিপিকা এন্ড্রু জানান, প্রথম পর্যায়ের নির্ধারিত সব কেমো দেওয়ার পর পরীক্ষা হলে দেখা যায়, এখনো এন্ড্রু কিশোরের শরীরে ক্যানসারের প্রভাব রয়ে গেছে। এ পর্যায়ে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে নতুন করে রেডিওথেরাপি শুরু করেছেন। গতকাল দুপুরে শুরু হয়েছে। এপ্রিলের পুরো মাস রেডিওথেরাপি নিতে হবে। মোট ২০টি থেরাপি নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা আবারও পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সে ক্ষেত্রে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মে মাসে ফিরতে পারেন এন্ড্রু কিশোর। লিপিকা এন্ড্রু আরও জানান, আপাতত আগের তুলনায় কিছু ভালো আছেন এন্ড্রু কিশোর। হাঁটাচলা করতে পারছেন, স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আরো জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকপ কমলেই দেশে ফিরবেন এন্ড্রু কিশোর। ক্যান্সারের চিকিৎসা ছাড়াও আরো কিছু কিছু রোগের চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি।

অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। এখনো চিকিৎসা চলছে তার।

এন্ড্রু কিশোরের রোগ ‘নন-হজকিন লিম্ফোমা’ প্রসঙ্গে কথা হয়েছিল দেশের প্রখ্যাত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনজুর মোরশেদের সঙ্গে। তিনি জানান, সহজ কথায় নন-হজকিন লিম্ফোমা একটি ক্যানসার, যা শুরু হয় লিম্ফোসাইট নামক সেল বা কোষ থেকে। লিম্ফোসাইট শরীরের রোগ প্রতিরোধ-ব্যবস্থার অংশ। লিম্ফোসাইট থাকে লিম্ফোনোড এবং অন্যান্য লিম্ফোয়েড টিস্যুতে—যেমন প্লীহা ও অস্থিমজ্জায়। এ রোগে জ্বর, রাতে ঘাম দেওয়া, ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ায় অরুচি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত রোগীরা মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ঘা, মুখ ফুলে যাওয়া, চোয়াল খোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, মুখের সংক্রমণ, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা প্রভৃতি উপসর্গ থাকে। এ রোগের চিকিৎসা আছে, তবে সারা পৃথিবীতে এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল।

এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।