গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর গান সংরক্ষণ করছে সরকার

Ayub Bachchu

গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর ২৭২টি গান সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চুকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং গীটারবাদক বলা হয়। গড়ে তোলা হয়েছে ডিজিটাল আর্কাইভ। তৈরি করা হয়েছে ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল। এতে থাকবে কিংবদন্তি এই শিল্পীর কনসার্টের ভিডিও এবং দুর্লভ মুহূর্তের ছবি। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর প্রয়াত হন এলআরবি ব্যান্ডের দলনেতা শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। মৃত্যুর আগে নিজের গানগুলোর কপিরাইট করেছিলেন তিনি। কপিরাইট অফিস জানায়, শিল্পীদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম ই-কপিরাইট আবেদনকারী আইয়ুব বাচ্চু। নিবন্ধনের দুই বছরের মাথায় হঠাৎ করেই তিনি চলে যান। তবে জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর ২৭টি অ্যালবাম কপিরাইট করে গেছেন তিনি, যার মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ গানের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী তিনি। সেসবের ২৭২টি গান সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের খবর আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর দুই বছর পূর্তির ঠিক আগমুহূর্তে জানিয়েছে কপিরাইট অফিস।

জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘ওই ২৭২টি গানের মধ্যে কিছু গান আছে, যেগুলোর গীতিকার আইয়ুব বাচ্চু নন। তাঁরা হয়তো আইয়ুব বাচ্চুকে সেসব গানের স্বত্ব দিয়েছেন। সে হিসেবে আমরা ২৭২টি গান নিয়ে প্রথমে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করি। এরপর তাঁর প্রোফাইল, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কনসার্ট, উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছি। ইউটিউবে সেসব গান বিনা মূল্যে শোনা যাবে। তবে স্ট্রিমিং করতে চাইলে মূল্য দিতে হবে। আর অ্যালবাম কিনতে হলে দিতে হবে ৯ দশমিক ৯ মার্কিন ডলার। এই অর্থ পাবেন আইয়ুব বাচ্চুর উত্তরাধিকারেরা।’

ওই ২৭২টি গানের মধ্যে কিছু গান আছে, যেগুলোর গীতিকার আইয়ুব বাচ্চু নন। তাঁরা হয়তো আইয়ুব বাচ্চুকে সেসব গানের স্বত্ব দিয়েছেন। সে হিসেবে আমরা ২৭২টি গান নিয়ে প্রথমে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করি।

কাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে এবি কিচেন নামে ওই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য দুটি। এক, দেশের একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্মৃতি রক্ষার জন্য ডিজিটাল আর্কাইভিং করা। দুই, এটা দেখে অন্য শিল্পীরাও যাতে অনুপ্রাণিত হন এবং সংগীতাঙ্গনে যে নৈরাজ্য চলছে, ডিজিটাল মাধ্যমে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অন্যদের গান ব্যবহার করছে, ব্যবসা করছে—এটাকে নিয়মের মধ্যে আনা।’

দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামে পরিচিত। সেই নামেই করা ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করা হবে কাল।