কক্সবাজারে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত নতুন পর্যটন স্পট ‘নিভৃতে নিসর্গ’

পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত নতুন পর্যটন জোন 'নিভৃতে নিসর্গ'

কক্সবাজারের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পটে “নিভৃতে নিসর্গ” স্থান পেয়েছে। এই পর্যটন স্পটের অবস্থান চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে। এই সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট দীর্ঘদিন ধরে ছিল অঘোষিত। কোন ধরণের পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ার কারণে এই পর্যটন স্পটটি রয়ে যায় নিভৃতে।

জেলা প্রশাসন কক্সবাজার সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ” এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। এই নিভৃত পর্যটন স্পটটির দু’পাশে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আকাবাকা নদীপথ বয়ে চলেছে। আকাবাকা নদীপথে নৌকাভ্রমণে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে শ্বেত পাথরের বিশাল পাহাড়। গতবছর ২৬ ডিসম্বর এই নিভৃতে পর্যটন স্পট ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলা প্রশসাক মো: কামাল হোসেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি এই অপরূপ শোভা দর্শনে সকলকে আমন্ত্রণও জানান। মো: কামাল হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানান, কক্সবাজারের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা সকল সৌন্দর্যের আধারে পর্যটন বিকাশে জেলা প্রশাসনের নিরবধি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিপুল সম্ভাবনাময় পর্যটন খ্যাত হিসেবে চিহ্নিত দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলো পর্যটকদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত পর্যটন স্থান ও প্রাচীণ ঐতিহ্যগুলোয় যাতায়াতের অসুবিধা, অনুপযোগী চলাচল ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতি, স্থল ও জলপথের নানা ভোগান্তি, দর্শনীয় স্থানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা ও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে থাকাসহ বহুবিধ কারণ উল্লেখ থাকলেও কক্সবাজারের প্রতি পর্যটকদের বিন্দুমাত্রও আকর্ষণ কমেনি।

পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত কক্সবাজার জেলায় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দর্শন ছাড়াও অপরূপ দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রয়েছে সদর উপজেলার মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, ইছাখালী নদীর উপর স্থিত শহরের খুরুশকুল ইউনিয়নে মনোমুগ্ধকর চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু, ইসলামপুর ইউনিয়নের ডুলাফকির মাজার, চিংড়ি রপ্তানী জোন, লবণ রপ্তানী জোন, ঈদগাঁও চরপাড়া রাবার ড্যাম, শহরের বার্মিজ মার্কেট, অগ্গমেধা ক্যং, হিলটপ সার্কিট হাউজ রোডের রাডার স্টেশন, বিজিবি ক্যাম্প স্থিত আজগরি মসজিদ, উখিয়া উপজেলার পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার, ইনানী সী-বীচ, কানা রাজার সুড়ঙ্গ, হিমছড়ির ঝর্না, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ সমূদ্র সৈকত, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, মহেশখালী উপজেলার জেটি, আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, চকরিয়া উপজেলার কাকারার শাহওমর মাজার, বরইতলী ইউনিয়নের মনোমুগ্ধকর গোলাপ বাগান, মগনামা ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদী, বরইতলী ইউনিয়নের মৎস্য খামার, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামু উপজেলার রামকোট বৌদ্ধ বিহার, লামারপাড়া বৌদ্ধবিহার, রাবার বাগান, রামকোট মন্দির, টেকনাফ উপজেলার ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসের প্রেমের নিদর্শন স্বরূপ, মাথিনের ক‚প, সেন্টমাটিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ সহ অসংখ্য পর্যটন স্পট। এরমধ্যে নতুন করে যুক্ত চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে এই পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানান, কক্সবাজার দেখার মতো অনেক কিছু আছে, যা পর্যটকদের কাছে স্থানগুলো অজানায় থেকে গেল। ফলে পর্যটকরাও অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সন্তুষ্ট হতে পারছেনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রচার প্রসার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে পর্যটন সমাগম বাড়তো এবং পাশাপাশি সরকারী খাতেও আয় হতো বিপুল পরিমান রাজস্ব। এক্ষেত্রে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিৎ। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ” পর্যটন খাতকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।