রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি ‘লুটের সময়’ ট্রাক উল্টে শ্রমিক নিহত

University of Rajshahi

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের পুকুর খননের মাটি রাতের অন্ধকারে ‘লুটের সময়’ মাটিবোঝাই ট্রাক্টর উল্টে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবক মো. মেরাজ (২৮) রাজশাহীর কাটাখালী থানার কিসমত কুখন্ড গ্রামের বাসিন্দা মো. দুলালের ছেলে। আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার এসআই ইমরান হোসেন।

এসআই ইমরান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর খননের মাটি নিয়ে ওই ট্রাক্টরটি ক্যাম্পাসের বাইরে অন্য আরেকটি পুকুর ভরাটের জন্য যাচ্ছিল। ট্রাক্টরটি রাজশাহীর চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তা উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাক্টরে থাকা মেরাজের মৃত্যু হয়।

সংবাদ পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পরিচয় শনাক্তের পর মরদেহ মতিহার থানায় রাখা হয়েছে।

কৃষি প্রকল্পের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমরা তাদেরকে মাটি নিয়ে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তারা আমাদের কথা দিয়েছিল যে, তারা আর মাটি নিয়ে যাবে না। তবে দুর্ভাগ্যবশত গতকাল রাতে তারা আবারও মাটি নিয়ে যাচ্ছিল বলে আমরা আজ সকালে জানতে পারি এবং মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় একটা ট্রাক উল্টে একজন শ্রমিক মারা গেছেন। মতিহার থানা পুলিশ বিষয়টি ডিল করছে। আর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাড়ে ১২টায় একটি জরুরি সভা ডেকেছি।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও টেন্ডারের শর্ত ভেঙে প্রায় একমাস যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর খননের মাটি ‘চুরি করে’ বাইরে বিক্রি করে আসছিল, এই কাজের ইজারা পাওয়া দুইটি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে, গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের উপস্থিতিতে ইজারাদারদের সঙ্গে বৈঠক করে পুকুর খনন ও অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, গত শনিবার সকালে ইজারাদারদেরকে শুধুমাত্র খননের মাটি নেওয়া বন্ধের ব্যাপারে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিলেও, শর্ত ভেঙে মাটি বিক্রি করার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।