japan12

জাপানিদের দীর্ঘ আয়ুর আসল রহস্য জেনে নিন

জীবনের অনিবার্য সত্য মৃত্যু। তবে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে কে না চায়। তবে সেই সুস্থ থাকার জন্য জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমরা কতটা যত্নবান সেটা দেখার বিষয়। আমাদের দেশে এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স চল্লিশের কোঠা পার করলেই জরা ভর করে। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা পঞ্চাশ পার করেও সুস্থ এবং ফিট।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তবে এটাও ঠিক দেশে ভেদে মানুষের মৃত্যুর বয়সের পার্থক্য আছে। কিছু দেশের মানুষের গড় আয়ু ৪৬-৫৫ বছর আবার কোনো কোনো দেশে ৮২-৮৫ হয়। অন্যদিকে জাপানিদের গড় আয়ু ৮৫.১৫ বছর। জাপানিরা রোগবালাই ছাড়াই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। জাপানিদের দীর্ঘ আয়ুর পেছনে কারণ হিসেবে আছে নিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস।

ডায়েট: বেশিরভাগ জাপানি তাদের খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক খাবার, সয়াবিন, ফার্মান্টেড খাবার, চা ও মাছ রাখেন। তারা রেড মিট , চিনি, আলু, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ও ফল খায় না বললেই চলে। এজন্য তাদের খাদ্যতালিকাকে পৃথিবীর সেরা সুষম খাদ্যের তালিকা বলা হয়। তারা শর্করা হিসেবে লাল আলু বা মিষ্টি আলু খান। মিষ্টি আলুতে জটিল শর্করা আছে। এজন্য এটি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে।

ধীরগতিতে খাওয়া: ভালোভাবে চিবিয়ে খান জাপানিরা। সেইসঙ্গে ধীরে ধীরে খাবার খান। খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্পও করেন। এতে তাদের পারিবারিক একাত্মতা বাড়ে। ভালো করে চিবিয়ে খাবার খেলে হজমও ভালো হয়।

নিয়মিত সকালের খাবার: সকালের খাবার হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার, এমনটাই বিশ্বাস করেন জাপানিরা। সকালে তারা ফাস্টফুড, ব্রেড বা এ জাতীয় খাবার খান না। কারণ, পাউরুটি ও অন্যান্য রুটি রিফাইনড ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি হয়; যা স্বাস্থ্যকর নয়। স্টিমড রাইস, রাইজ পরিডজ বা জাউভাত, ভাজা কিংবা সেদ্ধ মাছ খেয়ে সকাল শুরু করেন তারা।

রান্নার পদ্ধতি আলাদা: খুব বেশি ভাজা খাবার খান না জাপানিরা। তারা স্টিমড, ফার্মেন্টেড, অল্প সময়ে রান্না হয় এমন খাবার খান বেশি। খুব অল্প তেলে রান্না করা খাবার খান জাপানিরা।

পরিমাণে অল্প খাওয়া: জাপানিরা খাবারের পরিমাণ নিয়ে খুব সচেতন। তারা ভরপেট খাবার খায় না। এর বদলে যতটুকু না খেলেই নয়, ঠিক ততটুকু খাবার খায়। আর এজন্যই তাদের শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হয় না। স্বাস্থ্য ঠিক থাকে।

সয়া: জাপানিরা নিয়মিত সয়া দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার খান। সয়া দিয়ে তারা সয়া-দুধ, মিসো, টফু, ন্যাটো (ফার্মেন্টেড সয়াবিন) তৈরি করেন। সয়াতে আছে উৎকৃষ্ট পরিমাণের কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এ খাবারে যে প্রোটিন পাওয়া যায় তা শক্তিবৃদ্ধি করতে এবং পেশি গঠনে সহায়তা করে।

Scroll to Top