weapons

মিয়ানমার সীমান্তে কেন মাদকের সঙ্গে অস্ত্রও

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়াবা-ক্রিস্টাল মেথ-আইসের বড় বড় চালানের সঙ্গে ধরা পড়ছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ। সম্প্রতি র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএনের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও আইসের সঙ্গে অস্ত্র, গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বাংলাদেশ কমান্ডারসহ অন্তত ২১ জনকে।

মাদকের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গা এবং সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার লোকজন উদ্বিগ্ন। তাঁদের ধারণা, মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র এপারে অস্ত্র নিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা শিবিরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

এ ব্যাপারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আশ্রয়শিবিরগুলোতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যের বিশাল অংশ এবং সরকারি বাহিনীর ১৯টির বেশি সীমান্তচৌকি, সেনা ব্যারাক ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এতে বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্র-গোলাবারুদ বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেছে। নানা হাত ঘুরে সেসব অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ঢুকছে। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরকেন্দ্রিক ১০টি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওপারের অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহে জড়িত। এতে আশ্রয়শিবিরের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির তথ্যমতে, গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ৪৮ লাখ ইয়াবা, ১০ কেজির বেশি আইস, ৩৭টির বেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে। এ সময় ১২৩ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এরপরও মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, ওপারের পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হচ্ছে, দেশে ইয়াবা, আইস ও অস্ত্র–গোলাবারুদের সরবরাহ তত বাড়ছে।

১৯ মে উখিয়ার হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) পাশে একটি পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন। এ সময় ছয়টি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ১৫ মে উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি জি থ্রি রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল ও চারটি দেশে তৈরি ওয়ান শুটারগানসহ পাঁচ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৪ মে উখিয়ার লাল পাহাড়ে আরসার আরেকটি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ৫টি গ্রেনেড, ৩টি রাইফেল গ্রেনেড, ১০টি দেশে তৈরি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১টি বিদেশি রিভলবারসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এ সময় আরসার বাংলাদেশ কমান্ডার মো. শাহানুর ওরফে মাস্টার সলিম (৩৮) ও তাঁর এক সহযোগী মো. রিয়াজকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

গত কয়েক মাসে আশ্রয়শিবির থেকে ৩৫টি অস্ত্রসহ ৪২ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন। ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আমির জাফর বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে ভারী অস্ত্র ও মাদক যাতে আশ্রয়শিবিরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টেকনাফের হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ও উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের একাধিক চোরাচালান সিন্ডিকেট ইয়াবা-আইসের বড় চালান দেশে নিয়ে আসছে। আশ্রয়শিবির এখন ইয়াবা, আইস ও অস্ত্র মজুতের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

Scroll to Top