সেজান জুস কারখানায় নিহতদের পরিবারকে কোটি টাকা করে দিতে রিট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানার আগুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহতদের ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১০ জুলাই) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির পক্ষ থেকে রিট আবেদনটির করা হয়। আজ রোববার (১১ জুলাই) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এছাড়া অন্তবর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা করে দিতে আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আবেদন করা হয়েছে।
রিট আবেদনে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, হাসেম ফুডস লিমিটেড এবং হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম ও তার চার ছেলেসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ জুলাই) তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার নিচ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর কারখানা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন আরও অনেক শ্রমিক।

খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ভবনের ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। রাতেই তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আটকেপড়া কমপক্ষে ২৫-৩০ জন শ্রমিককে ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়।
তবে আগুনের ভয়াবহতায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ ঠিকমতো এগোতে পারেনি। পরদিন শুক্রবার দিনভর ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২টি মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।